Header Ads

Header ADS

সানিয়াতের মায়ের পিঠ চাপড়ে দেয়া

সানিয়াতের মায়ের পিঠ চাপড়ে দেয়া

সানিয়াতের চেহারা অনেকেরই পরিচিত। যে ভিডিওটিতে আদালত থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেওয়ার মুহূর্তে তার মায়ের পিঠ চাপড়ে দেয়ার দৃশ্য দেখা যায়, তা ছড়িয়ে পড়ার পর সবাই আন্টি ও সানিয়াতকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে। কিন্তু এরপর সানিয়াতের সঙ্গে যা ঘটেছে—তার বর্ণনা শুনলে রীতিমত শিহরণ জাগে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, রিমান্ডকালে সানিয়াতের প্রতিটি দিন ছিল ‍নির্যাতনের এক জাহান্নাম। তিনি প্রতিনিয়তই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে মারা যাওয়ার জন্য প্রার্থনা করতেন। একবার গভীর রাতে আন্টিকে ফোনে ধরে রেখে সানিয়াতকে বিবস্ত্রভাবে মারধর করার ছবি ও ধ্বনি পাওয়া যায়—তার পরপরই পরিবারের মনোবল ভেঙে পড়ে। ভাবুন, মাকে কল দিয়ে পাশে রেখে, তিনি কেন অন্যদিকে নির্মমভাবে পেটাচ্ছেন—কেন একজন মায়ের কাছে তা সহ্য করা সম্ভব?

ঘটনার সূত্রপাত এমন—সানিয়াতের মা অসুস্থ হওয়ায় তার বাবা মাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিয়ে যান। বাড়িতে ছিলেন সানিয়াত ও তার ছোট ভাই, যিনি ডাউন সিন্ড্রোমে ভুগেন। রাত একটার দিকে ছোট ভাই কেক চাইল—ডাউন সিন্ড্রোম রোগীদের আবদার তৎক্ষণাত পূরণ না করলে তারা অস্থির হয়ে ওঠে। সানিয়াত পেস্ট্রি কিনে আনার জন্য বের হন এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ‘উডেন স্পুন’ নামক দোকান থেকে বের হচ্ছিলেন—ততক্ষণে ডিবির পোশাকধারী একদল তাদের ঘিরে ধরে, নাম-টাম জিজ্ঞেস করে ঘাড় ধরে গাড়িতে তুলে নেয়। সানিয়াত চিন্তিত ছিলেন—এখন তার ছোট ভাইয়ের দেখভাল কে করবে?

পরিবারের দাবি: পরে ডিবি তাঁদের বাবা-মায়ের খোঁজ নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে মাকে ভর্তি করান, কিন্তু সানিয়াতকে নিয়ে চলে যান এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা শুরু হয়—তারে খ্যাত কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে চাপ দেয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবার সানিয়াতের আর কোনো খোঁজ পায় না; একদিন পরে মা ঢাকা মেডিকেলের মরদেহভাণ্ডারে গিয়ে একটি লাশ দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন—তার পর খবর পেয়ে আদালতে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ করেন।

আদালতে সানিয়াতকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। যখন আদালত থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হত, তখনই তার মায়ের সেই অনুপ্রেরণাদায়ক আলিঙ্গন দৃশ্যটি সামনে আসে—মা তার পিঠে হাত বুলিয়ে সাহস দেন। কিন্তু এরপর থেকেই, পরিবারের অনুযায়ী, নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে। ভিডিওর ভাইরাল হওয়ার পরে এ ব্যাপারে জরিমানা ও শাস্তির নামে তাকে আরো কঠোরভাবে টর্চার করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

তারা বলেন—সানিয়াতকে উল্টো ঝুলিয়ে দৈনিক ১৫–১৬ ঘণ্টা শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, ফলত শরীরের নিচের অংশে ফুলে রক্ত জমাট বাঁধে। চিৎকার করলে নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দেয়া হতো; তাই বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় ছিল অচেতন সুরে সহ্য করে নেয়া। নখের ওপর প্লায়ার ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। হাঁটতে পারায় তদন্ত নেতারা ক্ষিপ্ত হতেন—“ও এখনো হাঁটছে, তাহলে মারতে হবে কেন?”—এমন ধাঁচে তাদের বিরুদ্ধে আচরণ করা হতো বলে পরিবারের অভিযোগ।
খিদে বা পানি চাইলে পানির বদলে শাস্তি–হিসেবে তাকে বলার মাধ্যমে হাঁটাতে বাধ্য করা হতো বলে বলা হয়। কালো কাপড় বেঁধে চোখ বন্ধ রাখা হতো; যখন ইচ্ছে তখনই মারধর শুরু হতো—রাত ও দিনের কোনো স্বচ্ছ ধারণা থাকতো না।

এই ঘটনার পরপরই পরিবেশে অস্থিরতা দেখা দেয়। কিছু রাজনৈতিক নেতা অভয় প্রদানের কথাও বলেছেন, কিছু পুনর্বাসনের উদ্যোগের খবরও এসেছিল—কিন্তু পরিবারের কথায়, অপরাধটি যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন শুধুমাত্র ক্ষমার কথাই বলে মীমাংসা করা যায় না। তারা বলছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিক্য লঙ্ঘন করেছে—তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অনুসন্ধান ও ন্যায়ের দাবি তোলা জরুরি।

উল্লেখ্য—এখানে উপস্থাপিত সব ঘটনাকথনটি অভিযোগভিত্তিক; এগুলো নিছক পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের পাওয়া বিবরণ। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও যথার্থ তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। সানিয়াত ও তার পরিবারের নিরাপত্তা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা-সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার—তা হলে সত্য উদঘাটন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.