Header Ads

Header ADS

৩৫ জুলাই : ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা, হাসিনার গদি রক্ষা


৪ আগস্ট—২০২৪ সালের আন্দোলনের এক রক্তাক্ত ও নিষ্ঠুর মোড় নেওয়ার দিন। গদি রক্ষায় মরিয়া হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের মাঠে নামান, যেন দেশের ভেতরেই এক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ছাত্র-জনতার ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে এগিয়ে ৫ আগস্টে নিয়ে আসার ঘোষণা দেন আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। তাঁর ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের গতি এক নতুন মোড় নেয়, যা সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সমর্থনেও নতুন মাত্রা পায়।

সেদিন রক্তগঙ্গা যেন রক্তের সাগরে পরিণত হয়। রাজধানীর প্রবেশপথ, প্রধান সড়ক, অলিগলি—সব জায়গা রঞ্জিত হয় সাধারণ মানুষের রক্তে। শত শত শিক্ষার্থী ও নাগরিক একত্র হয়ে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, আর প্রতিটি জেলায়-উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে প্রতিরোধের আগুন।

পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ক্যাডাররাও সমানতালে গুলি চালায়। নিরাপত্তার নামে জনগণের বিরুদ্ধে চালানো এ সহিংসতায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় জনগণের প্রতিরোধে ১৪ পুলিশ সদস্য নিহত হন—যা সেই সময়কার সবচেয়ে আলোচিত প্রতিক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায়।

এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে আন্দোলনের সমন্বয়করা নতুন করে ভাবনায় পড়েন। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিফ মাহমুদ ঘোষণা দেন, ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ আর পরশু নয়, আগামীকাল—৫ আগস্টেই। এ ঘোষণায় আন্দোলনের জোয়ার আরও প্রবল হয়ে ওঠে। বিপরীতে সরকারও সেদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে এবং পরদিন থেকে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

তবে কারফিউ বা ছুটি কোনো কিছুই জনগণের স্রোত থামাতে পারেনি। বরং অনেকে তখনই বলেছিল, শেখ হাসিনার জন্য এ সাধারণ ছুটিই শেষ ছুটি হয়ে দাঁড়াবে।

চাপে পড়ে সেদিন সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা কর্মকর্তারা সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। সেনাবাহিনীও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—তারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না। ফলে ধীরে ধীরে নড়তে শুরু করে ক্ষমতার মসনদ, আর শুরু হয় স্বৈরতন্ত্রের পতনের ঘণ্টাধ্বনি।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.