হাজার কোটির সম্পত্তি হারাচ্ছেন সাইফ
ব্যক্তিগত সঙ্কটের পর এবার আইনি ধাক্কা, ১৫ হাজার কোটির সম্পত্তি হারাতে বসেছেন সাইফ আলি খান
২০২৫ সাল একাধিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে পার করছেন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান। বছরের শুরুতেই নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন এই অভিনেতা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বড় ধাক্কা এলো আদালত থেকে—পতৌদি পরিবারের উত্তরাধিকার সূত্রে দাবি করা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি হারাতে বসেছেন তিনি।
ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট গত শুক্রবার (৪ জুলাই) সাইফের করা একটি আবেদন খারিজ করে দেয়, যেখানে তিনি ভোপালের ঐতিহাসিক সম্পত্তির ওপর নিজের অধিকার দাবি করেছিলেন।
ঘটনার পেছনের ইতিহাস
এই জটিল আইনি দ্বন্দ্বের শুরু ২০১৪ সালে, যখন মধ্যপ্রদেশ সরকার ঘোষণা দেয় যে ভোপালের শেষ নবাব হামিদুল্লাহ খানের সম্পত্তি ‘এনেমি প্রোপার্টি অ্যাক্ট ১৯৬৮’-এর আওতায় পড়ে।
এই আইন অনুযায়ী, যেসব ভারতীয় নাগরিক দেশ ভাগের সময় বা পরে পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন, তাঁদের সম্পত্তি 'শত্রু সম্পত্তি' হিসেবে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন হয়ে যায়।
হামিদুল্লাহ খানের কন্যা আবিদা সুলতান ১৯৫০ সালে পাকাপাকিভাবে পাকিস্তানে চলে যান। সেই সূত্র ধরেই তাঁর নামে থাকা সম্পত্তিকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সাইফের দাবির পক্ষে যুক্তি
হামিদুল্লাহ খানের আরেক কন্যা সাজিদা সুলতান ভারতে থেকে যান এবং বিয়ে করেন পতৌদি নবাব ইফতিকার আলি খানকে, যিনি সাইফের দাদা। সেই সূত্রে, সাজিদা সুলতান এবং তাঁর উত্তরসূরিদের সম্পত্তিতে অধিকার থাকার কথা।
২০১৯ সালে আদালতও স্বীকার করে যে সাজিদা ছিলেন ওই সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী, ফলে সাইফেরও সেখানে অংশ থাকার কথা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সরকারের দাবি ছিল—চূড়ান্ত মালিকানা যেহেতু এক সময়কার পাকিস্তান প্রবাসী আবিদার নামে ছিল, তাই তা পুরোপুরি রাষ্ট্রের দখলে যাবে।
বর্তমান পরিস্থিতি
সাইফের আবেদন খারিজ হওয়ার অর্থ—এই মুহূর্তে ভোপাল এবং আশপাশের এলাকায় থাকা ঐতিহাসিক ও মূল্যবান সম্পত্তিগুলোর মালিকানা সরকারের দখলে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজপ্রাসাদ, জমি, ভবন ও বহু মূল্যবান স্থাপনা, যাদের আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার কোটি টাকা।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর সাইফের পরিবার চাইলে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারে, তবে আপাতত পতৌদি পরিবারের এই ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হারানোর শঙ্কা অনেকটাই প্রকট হয়ে উঠেছে।
নতুন করে আলোচনায় শত্রু সম্পত্তি আইন
এই ঘটনা আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে ‘এনেমি প্রোপার্টি অ্যাক্ট’—যা স্বাধীনতার পর দেশভাগজনিত রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে তৈরি হয়েছিল। অনেক সময় এই আইন পরিবারভিত্তিক বৈধ উত্তরসূরিদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ফেলে, এমন অভিযোগও উঠছে।
চলতি বছরের শুরুর ব্যক্তিগত হামলার ঘটনার পর আদালতের এই সিদ্ধান্ত সাইফ আলি খানের জন্য নিঃসন্দেহে আরেকটি বড় মানসিক ধাক্কা। তবে তার পরিবার এই লড়াই এখানেই থামিয়ে দেবে, নাকি উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবে—তা সময়ই বলে দেবে।

No comments
ধন্যবাদ।