Header Ads

Header ADS

ভয়াবহ দুই দুর্যোগের কবলে যুক্তরাষ্ট্র

দাবানল ও বন্যার ভয়াবহ কবলে যুক্তরাষ্ট্র, প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ছে

একইসঙ্গে দুটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল এবং দক্ষিণাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, নিখোঁজ রয়েছে বহু মানুষ।

শনিবার (৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স, বিবিসি সহ একাধিক সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


পশ্চিমাঞ্চলে দাবানলের তাণ্ডব: ক্যালিফোর্নিয়ায় পুড়ছে হাজার হাজার একর

ক্যালিফোর্নিয়ার সান লুইস ওবিস্পো কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল দাবানল, যার নাম ‘মাদ্রে ফায়ার’। ২ জুলাই দাবানলটির সূত্রপাত হলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি ক্যালিফোর্নিয়ার এবছরের সবচেয়ে বড় দাবানলে রূপ নিয়েছে।
এরই মধ্যে ৭০ হাজার ৮০০ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে।

ক্যাল ফায়ার জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয় শতাধিক ফায়ার কর্মী ও ৪০টি অগ্নিনির্বাপক যান মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দুই শতাধিক মানুষকে। আগুন এখনও বহু ঘরবাড়ির জন্য হুমকি হয়ে আছে।

গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম বলেন, “শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ১৫টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।” তিনি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ক্যালিফোর্নিয়া বারবার ভয়াবহ দাবানলের মুখে পড়ছে।

জলবায়ু গবেষক ড্যানিয়েল সোয়েইন বলেন, “দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় শীত ও বসন্ত ছিল অস্বাভাবিকভাবে শুষ্ক। আগাছা ও গাছপালা শুকিয়ে যাওয়ায় দাবানলের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।”


দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধস: টেক্সাসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক

ওদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের টেক্সাস রাজ্যে কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে গুয়াদালুপে নদী এলাকায়।

ভয়াবহ দুই দুর্যোগের কবলে যুক্তরাষ্ট্র

শুক্রবার (৪ জুলাই)
ভোরে ভয়াবহ এই হড়কা বান আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত ২৪ জন কিশোরী নিহত এবং কমপক্ষে ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
জানা গেছে, নিহতরা সবাই স্থানীয় একটি গার্লস সামার ক্যাম্পের সদস্য ছিলেন, যেটিতে অংশ নিয়েছিল প্রায় ৮০০ কিশোরী ও তরুণী।

বন্যার সময় তারা সবাই ছিল নদীর দুই তীরে স্থাপিত তাঁবুতে। ভোর ৪টার দিকে যখন হড়কা বান আঘাত হানে, সবাই ঘুমিয়ে থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময়ও মেলেনি।

টেক্সাসের উপ-গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “মাত্র ৪৫ মিনিটে গুয়াদালুপে নদীর পানি ২৬ ফুট বেড়ে যায়, যা এই বিধ্বংসী বন্যার কারণ।”

বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে বিশাল টিম:

  • ১৪টি হেলিকপ্টার
  • ১২টি ড্রোন
  • ৯টি উদ্ধারকারী দল
  • ৫০০ জনের বেশি স্থলকর্মী

বিবিসি জানিয়েছে, বৃষ্টির ফলে মধ্য ও দক্ষিণ টেক্সাসের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে ভূমিধসও।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.