Header Ads

Header ADS

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বাড়ছে এইচএমপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ

 

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বাড়ছে এইচএমপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ

করোনা মহামারির পর নতুন উদ্বেগ: বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বাড়ছে এইচএমপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ

করোনার পর নতুন ভাইরাসজনিত রোগ হিসেবে বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশে হঠাৎ করেই আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি)। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) রাজধানী ঢাকায় একটি গবেষণা পরিচালনা করে। সেখানে দেখা যায়, পাঁচ বছরের কম বয়সী ২০০ শিশুর নমুনা পরীক্ষা করে ২৬ জনের (প্রায় ১৩ শতাংশ) দেহে এইচএমপিভি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গবেষকরা এটিকে উদ্বেগজনক ও সতর্কতা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন।

উপসর্গ ও ঝুঁকি

এইচএমপিভি-তে আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন ক্যানসার, এইচআইভি, ডায়াবেটিস, সিওপিডি বা হাঁপানিতে ভোগেন—তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ তীব্র হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির তথ্যমতে, এই ভাইরাস থেকে ব্রংকাইটিস ও নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা তৈরি হতে পারে। আক্রান্ত হওয়ার ৩-৬ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৭-১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এবং অক্সিজেন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।

সংক্রমণ ছড়ানোর ধরন

এইচএমপিভি সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে ছড়ায়। এছাড়া সরাসরি স্পর্শ (যেমন করমর্দন) এবং দূষিত জিনিসপত্র ছোঁয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মুখ, নাক ও চোখ ভাইরাস প্রবেশের প্রধান পথ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে মৌসুমি ভিত্তিতে বিস্তৃত। শীতকাল বা বসন্তের শুরুতে সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। মালয়েশিয়া, ভারত, চীন এবং কাজাখস্তানের মতো দেশগুলোতে সম্প্রতি এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

মৃত্যু ও বৈশ্বিক প্রভাব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শিশুদের নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের দ্বিতীয় প্রধান কারণ এইচএমপিভি। ২০১৮ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১.১ মিলিয়ন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। তবে বাংলাদেশে এখনও এই ভাইরাসজনিত মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই।

এইচএমপিভি: নতুন নয়

এইচএমপিভি নতুন কোনো ভাইরাস নয়। এটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০০১ সালে, আর বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়ে ২০১৬-১৭ সালের দিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ভাইরাস আরও অনেক আগে থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেফিরে এসেছে। এর মানে, মানুষের শরীরে আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলেই অনেকে সহজেই এ ভাইরাস মোকাবিলা করতে পারছেন।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

এইচএমপিভির কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা টিকা এখনো নেই। চিকিৎসা মূলত উপসর্গ নির্ভর। যেমন—জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল, সর্দি-কাশির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশ্রাম, তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ এবং পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের ভাইরোলজিস্টরা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, এতে প্রতিক্রিয়া বা ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রতিরোধে করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা প্রতিরোধে নেওয়া সাবধানতাগুলোর মতোই সতর্কতা এই ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর। যেমন:

  • মাস্ক পরা
  • ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া
  • নাক-মুখে হাত না দেওয়া
  • ভিড় এড়িয়ে চলা
  • হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে নেওয়া
  • পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও পর্যাপ্ত পানি পান
  • অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া

বিশেষজ্ঞ মত

আইইডিসিআরের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন বলেন, “ফ্লুর প্রাদুর্ভাব থাকলেও বর্তমানে দেশে এইচএমপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম। আমরা ভাইরাসটি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। যদি সংক্রমণ বাড়ে, তাহলে সরকারকে সতর্ক করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, এখনই আতঙ্কিত না হয়ে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব।


এইচএমপিভি নতুন কোনো ভাইরাস নয়, তবে এটি শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সচেতনতা ও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই এর সংক্রমণ সহজেই ঠেকানো সম্ভব।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.