Header Ads

Header ADS

জুন মাসে করোনায় ২২ জন ও ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে

জুন মাসে করোনায় ২২ জন ও ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে

চলতি বছরের জুন মাসে হঠাৎ করেই করোনা ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এতে করে একদিকে যেমন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডেঙ্গুর পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৯ জন, যা এ বছর এক মাসে সর্বোচ্চ।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়:

  • জানুয়ারিতে ১০ জনের মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি ১,১৬১ জন
  • ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু ৩ জন, ভর্তি ৩৭৪ জন
  • মার্চে মৃত্যু না হলেও ভর্তি ৩৩৬ জন
  • এপ্রিলে মৃত্যু ৭ জন, ভর্তি ৭০১ জন
  • মে মাসে মৃত্যু ৩ জন, ভর্তি ১,৭৭৩ জন
  • জুনে সর্বোচ্চ ১৯ জনের মৃত্যু, ভর্তি ৫,৯৫১ জন

এ পর্যন্ত (জুন মাস পর্যন্ত) দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১০,২৯৬ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯,০৮৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪২ জনের।

করোনার হঠাৎ উত্থান
একই সময়ে করোনা সংক্রমণও নতুন করে বাড়তে থাকে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) জানায়, সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া দুইটি নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট—এক্সএফজি ও এক্সএফসি—এই বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
জুনের প্রথম ১০ দিনে করা ১৪টি জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মধ্যে ১২টিতেই এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই দুটি ভ্যারিয়েন্ট মূলত ওমিক্রনের উপধারা জেএন.১-এর অন্তর্ভুক্ত।

জুন মাসে মোট ১,৪০৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৩৪ জন। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো—চলতি বছরের করোনায় যত মৃত্যু হয়েছে, তার সবগুলোই ঘটেছে জুন মাসে; অর্থাৎ এ মাসেই মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

সর্বমোট হিসাব অনুযায়ী, দেশে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৫২ হাজার ৯৩ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫২১ জনের।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
জনস্বাস্থ্যবিদ ও চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলোর সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি হলেও গুরুতর অসুস্থতার হার তুলনামূলক কম। তবুও অসতর্কতা ও উদাসীনতায় এই ধরনগুলো ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
তাই সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সচেতনতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.