নেক সন্তান লাভের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমল
নেক সন্তান লাভের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমল
সন্তান যদি অবাধ্য হয়, তবে মা-বাবার জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। তাই প্রতিটি অভিভাবকের আকাঙ্ক্ষা থাকে একজন নেক, আজ্ঞাবহ ও সৎ সন্তানের। আর এমন সন্তান আল্লাহর দেওয়া এক অমূল্য নেয়ামত। কোরআন ও হাদিসের আলোকে নেক সন্তান লাভের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করলে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হয়ে এমন বরকতময় দান দিতে পারেন।
চলুন জেনে নিই সেই তিনটি আমল কী—
১. আল্লাহর কাছে দোয়া করা
সন্তান লাভ কিংবা নেক সন্তান পাওয়ার জন্য প্রথম ও প্রধান মাধ্যম হলো আন্তরিকভাবে আল্লাহর দরবারে দোয়া করা। কোরআনে এ বিষয়ে বহুবার উল্লেখ রয়েছে। যেমন:
رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّ اجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا
উচ্চারণ: “রাব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আয়িউনা ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।”
অর্থ: “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের জন্য নয়নজুড়ানো করো এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানাও।”
(সুরা ফুরকান: ৭৪)
সন্তান না থাকা অবস্থায় হজরত জাকারিয়া (আ.) যেভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, তা-ও অনুসরণীয়:
رَبِّ لَا تَذَرۡنِیۡ فَرۡدًا وَّ اَنۡتَ خَیۡرُ الۡوٰرِثِیۡنَ
উচ্চারণ: “রাব্বি লা তাযারনি ফারদা, ওয়া আংতা খায়রুল ওয়ারিসিন।”
অর্থ: “হে আমার প্রভু! আমাকে একা রেখো না। নিশ্চয়ই তুমি উত্তম ওয়ারিস।”
(সুরা আম্বিয়া: ৮৯)
আরেকটি বিখ্যাত দোয়া:
رَبِّ هَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ ذُرِّیَّۃً طَیِّبَۃً ۚ اِنَّکَ سَمِیۡعُ الدُّعَآءِ
উচ্চারণ: “রাব্বি হাবলি মিল্লাদুংকা জুররিয়াতান ত্বাইয়্যেবাতান, ইন্নাকা সামিউদ দুআ।”
অর্থ: “হে আমার প্রভু! আমাকে তোমার পক্ষ থেকে পবিত্র সন্তান দান করো। তুমি তো দোয়া শ্রবণকারী।”
(সুরা আলে ইমরান: ৩৮)
২. সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা
দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার চেষ্টা করা জরুরি। তাই নবী করিম (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, দাম্পত্য সম্পর্ক শুরুর আগে আল্লাহর কাছে এই দোয়া পড়া:
بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
উচ্চারণ: “বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা।”
অর্থ: “আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যেসব সন্তান আপনি দান করবেন, তাদেরকেও শয়তান থেকে রক্ষা করুন।”
হাদিসে বলা হয়েছে, এই দোয়া পড়ে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করলে সেই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানকে শয়তান ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারি)
৩. গুনাহ থেকে দূরে থাকা
নেক সন্তান পেতে হলে প্রথমেই নিজেকে নেক হতে হবে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আমল, চরিত্র ও জীবনধারার ওপরই সন্তানের গুণাবলি অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই নিজেদের গুনাহ থেকে রক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত ইবাদত, তওবা, সদাচরণ ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা তাঁর পছন্দের বান্দাদের নেক সন্তান দান করেন।
নেক সন্তান পাওয়া কেবল চিকিৎসা বা পরিকল্পনার ব্যাপার নয়—এটি একান্তই আল্লাহর দান। তাই দোয়া, সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন ও গুনাহ থেকে বিরত থাকা—এই তিন আমলের মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে এই অমূল্য নিয়ামতের অধিকারী হতে পারেন।

No comments
ধন্যবাদ।