জুলাই সহিংসতার ৯ মাস পর বেরোবিতে মামলা দায়ের
জুলাই সহিংসতার ঘটনায় ৯ মাস পর বেরোবিতে ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেলসহ ৭১ জনের নামে মামলা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) গত বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় ৯ মাস পর ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত সভাপতি পোমেল বড়ুয়াসহ ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮০–১০০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৭ মে) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১, ১৫ ও ১৬ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সময় বেরোবির প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বহিরাগতরা অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় গুলি, লাঠি, রড, ইট, হাতবোমা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১১ জুলাই ছাত্র শহীদ আবু সাঈদকে পোমেল বড়ুয়া চরথাপ্পড় দেন এবং মাসুদুল হাসান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন। একই সঙ্গে ১৬ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরও গুলিসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংস হামলা চালানো হয়।
মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা পোমেল বড়ুয়া, মাহফুজুর রহমান শামিম, মাসুদুল হাসান, বাবুল হোসেন, ধনঞ্জয় কুমার টগর, বিধান বর্মণ, গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, শাহীন ইসলাম, আবির শাহরিয়ার, আরিফুজ্জামান ইমনসহ অনেকে।
এছাড়া মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকেও আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান তুফান, কর্মচারী আমির হোসেন, মনিরুজ্জামান পলাশ, তৌহিদুল ইসলাম, রাফিউল হাসান রাসেল, নুরনবী, নুর আলম, মোক্তারুল ইসলাম, মাহবুবা আক্তার, মাহবুবার রহমান বাবু ও মো. আপেল।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার ও মামলার বাদী ড. হারুন অর রশিদ জানান, “তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে সময় লাগায় মামলার কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে আমরা চাই, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হোক।”

No comments
ধন্যবাদ।