Header Ads

Header ADS

পেপ্যাল বাংলাদেশে ! বাস্তবতা, বাধা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

পেপ্যাল বাংলাদেশে: বাস্তবতা, বাধা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক লেনদেন সেবা পেপ্যাল চালু হওয়া নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে দেশের ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে এটি একটি বড় প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবে এখনো পেপ্যাল সেবা চালু হয়নি। সম্প্রতি সরকারের পরিবর্তনের পর আবারও এই আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।

তবে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, আপাতত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, তবে চেষ্টার কমতি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এক সাক্ষাৎকারে তৈয়্যব আরও বলেন, অতীতে আগের সরকার পেপ্যাল ইস্যুতে ভুল বার্তা দিয়েছে এবং নানা বিদেশ সফরের নামে অর্থ অপচয় হয়েছে। পেপ্যাল না আসার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে:

  1. কারিগরি সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টার আর্থিক সুরক্ষা সাপোর্ট বা ফাইন্যান্সিয়াল স্ক্যাম হ্যান্ডলিং সিস্টেম নেই।
  2. ঠিকানা যাচাইয়ের ঘাটতি: পেপ্যাল এখনো ব্যবহারকারীর ঠিকানা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়, যা বাংলাদেশে সঠিকভাবে নেই।
  3. একমুখী লেনদেনের বিধিনিষেধ: পেপ্যাল একটি মার্কেটপ্লেস, যেখানে দ্বিমুখী লেনদেন প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক একমুখী লেনদেনের অনুমতি দেয়, যা বড় বাধা।
  4. আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা: পেপ্যালের সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা ভারতীয় হওয়ায় বাংলাদেশের অনুরোধ ভারতে পাঠানো হয়, কিন্তু সেখানে কোনো সাড়া মেলে না।

ফ্রিল্যান্সারদের মতে, বহুবার প্রতিশ্রুতি এলেও বাস্তবে তা কখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৬ সালে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি, ২০১৭ সালের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ঘোষিত পেপ্যাল চালুএসব কেবলজুমসেবায় সীমাবদ্ধ ছিল, যা পূর্ণ পেপ্যাল নয়। ২০২১ সালেও পেপ্যাল চালুর ঘোষণা এলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।

তবে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে আবারও আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং সিঙ্গাপুরের পেপ্যাল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

পেপ্যাল চালু হলে দেশের ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা -কমার্স ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ হবে। তবে এখনো বাস্তবায়নের পথে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ, যা সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.