‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠনের দাবিতে ১৫ দফা দাবি উত্থাপন
‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠনের দাবিতে ১৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য, বাণিজ্যিকীকরণ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দূর করে একটি বৈষম্যহীন, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা এই দাবিগুলো তুলেছে।
ছাত্র ফেডারেশনের ১৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
-
শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে সর্বস্তরের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন।
-
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও পরিচালনায় সরকারি হস্তক্ষেপ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
-
প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ও বই সরবরাহের ব্যবস্থা।
-
শিক্ষা বাজেট বাড়িয়ে জিডিপির কমপক্ষে ৬% বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
-
সরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো ও মানোন্নয়ন।
-
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করে বিদ্যমানদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা।
-
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজের বেতন নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন।
-
শিক্ষা খাতে দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোচিং নির্ভরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা।
-
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালু।
-
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচন চালু।
-
পাঠ্যক্রমে বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, মানবিকতা ও পরিবেশ সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করা।
-
কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসার ও মর্যাদা নিশ্চিত।
-
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন।
-
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ কমিয়ে শিক্ষাবান্ধব মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু।
-
উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গঠনে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
ছাত্র ফেডারেশন বলেছে, এসব দাবির ভিত্তিতে সরকার ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করলে তা বর্তমান সংকট উত্তরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হবে।

No comments
ধন্যবাদ।