গলায় কালো দাগ হলে করণীয়
মুখের ত্বকের যত্নে আমরা নানাভাবে সচেতন হলেও, গলা ও ঘাড়ের প্রতি সেই যত্ন বা মনোযোগ অনেক সময়ই অনুপস্থিত থাকে। অথচ এই অংশ দুটিও আমাদের সৌন্দর্য এবং পরিচর্যার সমান গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শুধু অবহেলা নয়, হরমোনজনিত সমস্যা, স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলেও গলা ও ঘাড়ের ত্বকে কালচে দাগ, অমসৃণতা বা মোটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এতে পুরো চেহারার সৌন্দর্যই অনেকটা ম্লান হয়ে যেতে পারে এবং অস্বস্তিও বাড়ায়।
এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা ও সচেতনতা। যেমন:
- মুখের মতোই গলা-ঘাড় পরিষ্কার রাখা
- সানস্ক্রিন ব্যবহার করা
- এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং করা সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার
- গলায়ও ময়েশ্চারাইজার লাগানো
- প্রয়োজন হলে ঘরোয়া প্যাক বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া
কেন পড়ে গলায় কালো দাগ?
গ্রিনলাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান বলেন:
-
সূর্যের রশ্মি: সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে বের হলে গলার ত্বক সূর্যের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে পুড়ে গিয়ে কালো হয়ে যায়।
-
হরমোনজনিত পরিবর্তন: বিশেষ করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা থাইরয়েড সমস্যা থাকলে গলার চামড়া মোটা ও কালচে হয়ে যেতে পারে।
-
ডায়াবেটিস ও স্থূলতা: ডায়াবেটিস কিংবা ওজন বেড়ে যাওয়ার ফলে গলায় অ্যাকান্থসিস নিগ্রিকান্স নামক চর্মরোগ দেখা দেয়, যা ঘাড়ে কালচে ছোপ ফেলে।
-
ঘাম ও ঘর্ষণ: গলা বা ঘাড়ের ভাঁজে ঘাম বেশি হয় এবং কাপড়ের সঙ্গে ঘর্ষণও বাড়ে, যা ত্বক কালচে করে তোলে।
-
অযত্ন ও মৃত কোষ জমা: নিয়মিত পরিষ্কার না করলে জমে থাকা ময়লা ও মৃত কোষ থেকে কালচে ভাব সৃষ্টি হয়।
ঘরোয়া টোটকা কী করা যায়?
কসমোলজিস্ট শোভন সাহা জানান, ঘরেই তৈরি করা যায় এমন কিছু কার্যকর প্যাক—
প্রাকৃতিক প্যাক:
উপকরণ:
- ১ চামচ টক দই
- ১ চামচ মধু
- ১ চামচ ডালের বেসন
ব্যবহারবিধি:
সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে গলার কালো অংশে লাগিয়ে দিন। ৩০ মিনিট রেখে দিন, তারপর ভেজা তোয়ালে দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর কোনো সাবান ব্যবহার করবেন না।
যা মনে রাখবেন:
- ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছু ব্যবহার না করাই ভালো।
- চাইলে বাজার থেকে প্যাক কিনে ব্যবহার করতে পারেন, তবে ব্লিচজাতীয় উপাদান যেন না থাকে—এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে লক্ষ্য করুন।
-
ব্লিচ ব্যবহারে সাময়িকভাবে ত্বক উজ্জ্বল দেখালেও তা ত্বকের গভীর ক্ষতি করে। পরবর্তীতে এই কালচে দাগ আর সহজে দূর করা সম্ভব হয় না।
-
যদি গলার কালো দাগ দ্রুত বাড়তে থাকে, চুলকানি বা অস্বাভাবিক ঘনত্ব দেখা দেয়, তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

No comments
ধন্যবাদ।