মাইগ্রেন থেকে মুক্তির উপায়
মাথাব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে মাইগ্রেন একটি প্রচলিত ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এছাড়া দৃষ্টিসমস্যা, সর্দি-জ্বর কিংবা মস্তিষ্কে টিউমারের মতো সমস্যাও মাথাব্যথার উৎস হতে পারে। তবে মাইগ্রেনের সঙ্গে জীবনযাত্রার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই কিছু সহজ ও কার্যকর নিয়ম মেনে চললে এই ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনেই মিলতে পারে উপশম
মাইগ্রেন প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম। অতিরিক্ত আলো বা অন্ধকারে কাজ করা, কড়া রোদ কিংবা অত্যধিক ঠান্ডা পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকা এড়ানো উচিত। একইভাবে, দীর্ঘসময় কম্পিউটার, টিভি কিংবা মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকাও মাথাব্যথা বাড়াতে পারে।
ব্যথা শুরু হলে কী করবেন
মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে প্রথমেই পর্যাপ্ত পানি পান করুন, বিশেষ করে যদি বমি বমি ভাব থাকে। বিশ্রাম নিন এবং মাথায় ঠান্ডা ভেজা কাপড় দিয়ে সেঁক দিলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা জরুরি
সঠিক খাদ্যাভ্যাস মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত, আলু ও বার্লি উপকারী। খেজুর, ডুমুর, সবুজ শাকসবজি, তিল, আটা ও বিটে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া দিনে দু’বার আদার রস বা টুকরো গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা ভালো
কিছু খাবার মাইগ্রেন বাড়াতে পারে, যেমন: চকলেট, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, টমেটো, লেবু, কমলালেবু, গমজাতীয় খাবার এবং চীনাবাদাম। তবে ব্যথার প্রকৃতি ও ট্রিগার প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে, তাই কোন খাবার বা পরিস্থিতিতে ব্যথা বাড়ে বা কমে তা নিজে খেয়াল রাখা জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি মাথাব্যথা ঘন ঘন বা তীব্রভাবে ফিরে আসে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

No comments
ধন্যবাদ।