Header Ads

Header ADS

অভিযোগকারী নারী চার মাসের গর্ভবতী :নোবেলের আইনজীবী

মাঈনুল আহসান নোবেল

কণ্ঠশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেলকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, এক নারীকে সাত মাস ধরে একটি বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং পরে নোবেলকে আটক করে।

এদিকে, গ্রেপ্তার নোবেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ মে) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বেলা ২টা ৫০ মিনিটে নোবেলকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক আসন গ্রহণ করার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন আদালতের অনুমতি নিয়ে ওকালতনামায় নোবেলের স্বাক্ষর নেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডেমরা থানার পরিদর্শক মুরাদ হোসেন নোবেলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আদালতে সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ইলামনি জানান, ভুক্তভোগী একজন ইডেন কলেজের ছাত্রী, যিনি মোহাম্মদপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সঙ্গে নোবেলের পরিচয় হয়। পরে গত বছরের ১২ নভেম্বর গায়ক নোবেল তাকে নিজের স্টুডিও দেখানোর কথা বলে ডেমরা এলাকায় তার বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানেই আটকে রাখেন।

নোবেলের পক্ষে জামিন আবেদন করে আইনজীবী বলেন, মামলার ঘটনা প্রায় ছয় মাস আগের এবং বাদী নোবেলের স্ত্রী। তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলা হয়েছে। তারা একসঙ্গে বসবাস করছিলেন এবং ভুক্তভোগী চার মাসের গর্ভবতী। কাবিননামা না থাকলেও তারা সংসার করতে আগ্রহী এবং আপস করতে প্রস্তুত।

বিচারক কাবিননামা সম্পর্কে জানতে চাইলে আসামিপক্ষ জানায়, তাড়াহুড়ার কারণে কাবিননামা আদালতে আনা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, নোবেলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং ভুক্তভোগী ইডেন কলেজের ছাত্রী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। তার দাবি, ১২ নভেম্বর ডেমরার বাসায় নিয়ে গিয়ে নোবেল তাকে একাধিক ব্যক্তির সহায়তায় ধর্ষণ ও নির্যাতন করেন।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী সোমবার (১৯ মে) ডেমরা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, নোবেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর তিনি ওই তরুণীকে স্টুডিও দেখানোর কথা বলে বাসায় নিয়ে যান। পরে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করেন এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে নীরব থাকতে বাধ্য করেন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, নোবেল প্রায়শই মাদকাসক্ত অবস্থায় তাকে মারধর করতেন এবং সহযোগীদের সহায়তায় আরেকটি কক্ষে আটকে রাখতেন। পরে ওই নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে শনাক্ত করে এবং পুলিশি সহায়তায় উদ্ধার করে। 

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.