‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে নেপালে
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারোয়ার।
অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা, চিকিৎসক ও পেশাজীবী প্রতিনিধি, স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা। পাশাপাশি, সার্ক সচিবালয়, ইসিমোড, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারাও আয়োজনে যোগ দেন।
অনুষ্ঠান শুরু হয় নেপাল ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পাঠানো বাণী পাঠের পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় “জুলাই অনির্বাণ” শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র।
বক্তব্যে নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের ঐকান্তিক প্রত্যয় ও নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনরুল্লেখ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও জনগণের পারস্পরিক সম্পৃক্ততা—এই খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সার্ক মহাসচিব তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা বলে অভিহিত করেন এবং গণতান্ত্রিক মুক্তির সংগ্রামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে বলেন, তরুণ প্রজন্ম—বিশেষত ‘জেন জি’—এর সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশ আজ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান কর্মকাণ্ডে সকল অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস “জুলাই পুনরুজ্জীবন অনুষ্ঠানমালা–২০২৫”-এর অংশ হিসেবে একাধিক কর্মসূচি আয়োজন করছে, যা প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতেও ভূমিকা রাখছে।

No comments
ধন্যবাদ।