Header Ads

Header ADS

৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন - মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী

৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন -  মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী

জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। কারণ, এই দিনে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ এক দমনমূলক শাসনের ‘স্থগিত’ ঘটে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা বার্তায় আজহারী লেখেন, “গত বছরের এই দিনে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ গণঅভ্যুত্থান একটি পরিবর্তনের সূচনা করে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জুলুমের শাসনের স্থবিরতা ভেঙে দেশের মানুষ নতুন আশায় বুক বাঁধে।”

তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের টালমাটাল অর্থনীতি যেভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে, তাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান স্থিতিশীল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

আজহারী আরও লেখেন, “ইউনূস সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন— আর তা হলো সংস্কার। ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এই সংস্কার ছিল অত্যন্ত জরুরি। তবে এই উদ্যোগে কোনো গুরুত্বপূর্ণ খাত উপেক্ষিত হয়নি তো?— সে বিষয়েও নজর রাখা দরকার। একইসঙ্গে বিতর্কিত একাধিক কমিশনের প্রতিবেদন পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।”

তিনি সতর্ক করেন, “একটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মূল্যবোধকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। একইসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে— প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে যেন ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে আজহারী লেখেন, “নতুন বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিচ্ছন্ন, প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির চর্চা দেখতে চায়— যেখানে হানাহানি, বিভক্তি বা সহিংসতা থাকবে না। দেশকে এগিয়ে নিতে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ জরুরি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং স্বাধীনচেতা। তারা প্রত্যাশা করে— স্বাধীনভাবে নিজ নিজ বিশ্বাস ও আদর্শ নিয়ে নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবে। বৈদেশিক কোনো শক্তির হাতের পুতুল হতে তারা রাজি নয়। মানুষ চায়, যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মের সুযোগ পাবে, বৈষম্যহীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে এবং সর্বত্র নিরাপত্তা পাবে।”

শেষে মাওলানা আজহারী মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন: “তিনি যেন আমাদের সঠিক পথে চলার তাওফিক দেন, আমাদের অভিভাবক হিসেবে ন্যায়পরায়ণ ও যোগ্য নেতৃত্ব দান করেন এবং যেন আমরা দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন এক বাংলাদেশে স্বস্তি ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারি।”

তিনি তার বার্তা শেষ করেন এই আহ্বানের মাধ্যমে:
“আসুন, বিভেদ ভুলে ঐতিহাসিক এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাই। ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদ, দমননীতি ও আধিপত্যবাদকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাই— ইনশাআল্লাহ।”

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.