Header Ads

Header ADS

গুলি খাওয়ার পর নিজের শার্ট খুলে কোমরে বেঁধে ফেললেন: জনি হোসেন

গুলি খাওয়ার পর নিজের শার্ট খুলে কোমরে বেঁধে ফেললেন: জনি হোসেন

"গুলি খাওয়ার পর নিজের শার্ট খুলে কোমরে বেঁধে ফেললেন, একাই রিকশা ডাকলেন। বললেন, 'হসপিটালের দিকে চালাও ভাই।' কিন্তু পথের মধ্যেই রিকশাওয়ালা হঠাৎ পিছনে ফিরে দেখেন, জনি আর নেই—রিকশা থেকে হেলে পড়ে গেছেন..."

জনি হোসেন ছিলেন সেই শহিদদের একজন, যিনি ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ির রক্তাক্ত মিছিলে প্রাণ দেন। মৃত্যুর মাত্র দুই বছর আগে বাবার কাছ থেকে আড়তের ব্যবসার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন তিনি। মনির হোসেন, জনির বাবা, তিন ছেলের মধ্যে জনিকেই সবচেয়ে ভরসাযোগ্য মনে করতেন—এই ছেলেই পারবে পরিবারের দায়িত্ব নিতে।

মাত্র ২২ বা ২৩ বছর বয়সেই জনি নিজের কাঁধে সংসারের বোঝা তুলে নেন। সেদিন বাড়ি থেকে চা খাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান, কিন্তু আসলে গোপনে আন্দোলনে যোগ দেন। সেখানে হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে কোমরে গুরুতর আহত হন। শরীর ঝাঁঝরা হয়ে গেলেও নিজেই শার্ট খুলে ক্ষতস্থান বেঁধে ফেলেন, কাউকে কিছু না বলে একা রিকশা ডাকেন। কিন্তু হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি—রিকশায়ই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরে জানা যায়, নিহতদের একটি ট্রাক গোপনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল পুলিশের পাহারায়। ছাত্ররা ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই ট্রাক থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে। সেখানেই মেলে জনির নিথর দেহ—একটার ওপর আরেকটা লাশের মাঝে পড়ে ছিল, কোমরের পাশ দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে রক্ত পড়ছিল।

জনির বাবা মনির হোসেন তখন থেকেই শোকে ভেঙে পড়েন। এত কেঁদেছেন যে চোখের অপারেশন করাতে হয়েছে। একবার স্ট্রোকও করেছেন, এখন আর ঘর থেকে বের হতে পারেন না। কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন, বলেন,
"কান্দুম না? আমার জোয়ান পোলা আছিল ২৪ বছর বয়সের।
বেকারির সামনে গেলেই দেখি পোলায় বিস্কুট খাইতেছে, টংয়ের সামনে দেখি সিগারেট লইতাছে, বন্ধুগো লগে চা খাইতেছে, আড্ডা মারতাছে।
সারাজীবন কানলেও কি এই শোক শেষ হইব?"

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.