Header Ads

Header ADS

৬ আগস্ট পালিত হয় হিরোশিমা দিবস

৬ আগস্ট পালিত হয় হিরোশিমা দিবস

পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনা চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। বিভিন্ন দেশে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধ, বিপ্লব ও আন্দোলনের কথা আমরা জানি। তবে ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ঘটে যাওয়া পারমাণবিক বোমা হামলা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

হিরোশিমা দিবস কবে পালিত হয়?

প্রতি বছর ৬ আগস্ট পালিত হয় হিরোশিমা দিবস। ২০২৫ সালে দিনটি পালিত হচ্ছে মঙ্গলবার

হিরোশিমা দিবসের ইতিহাস

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা শহরে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। ‘দ্য লিটল বয়’ নামের এই বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হয়েছিল। বোমাটি বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। আরও হাজারো মানুষ শারীরিকভাবে গুরুতরভাবে আহত ও বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েন। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, আজও সেখানে জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু।

হিরোশিমার এই মানবিক বিপর্যয় বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। বিজ্ঞান কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে, তার নির্মম প্রমাণ হয়ে রয়েছে এই ঘটনা।

হিরোশিমা দিবসের তাৎপর্য

এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো—মানবসভ্যতাকে যুদ্ধ ও পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। হিরোশিমা দিবস আমাদের শেখায় যে, যুদ্ধ কখনও কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বরং যুদ্ধ শুধু ধ্বংস, কান্না ও দীর্ঘস্থায়ী বেদনার নাম।

হিরোশিমা দিবস পালন

প্রতি বছর হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম-এ আয়োজন করা হয় এই দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি। এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে ঠিক সেই স্থানে, যেখানে ১৯৪৫ সালে বোমাটি ফেলা হয়েছিল। এই দিনে হিরোশিমাবাসী একত্রিত হয়ে নিহতদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র যেন আর ব্যবহার না হয়—সেই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই দিনটি শুধু ইতিহাস স্মরণ নয়, বরং একটি মানবিক বার্তা বহন করে—‘শান্তি, সহাবস্থান ও অস্ত্রবিহীন পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়।’

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.