Header Ads

Header ADS

"দুলালকে পুলিশ একেবারে সামনে থেকে গুলি করেছিল—পিস্তল সরাসরি কোমরে তাক করে। অথচ, সেদিনই ছিল ওর জন্মদিন!"

(শহিদ দুলাল মাহমুদের স্ত্রী)

"দুলালকে পুলিশ একেবারে সামনে থেকে গুলি করেছিল—পিস্তল সরাসরি কোমরে তাক করে। অথচ, সেদিনই ছিল ওর জন্মদিন!"

"যেদিন দুলালের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল, সেই মুহূর্তটা আজও মনে আছে। প্রথম কথাতেই বলেছিল, 'আমি খুব গরিব ঘরের ছেলে। অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছি।'
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করত দুলাল। আমাদের বিয়ে হয়েছিল ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর আমাদের দুই সন্তান—আদিয়াত আর আরিশা।

১৬ সালের পর থেকে কখনো মনে পড়ে না, ও ছাড়া আমি কারও উপর নির্ভর করেছি। যে কোনো সমস্যায় যখন ওকে বলতাম, শুধু বলত, 'দেখতেছি।' তারপর, কোনো না কোনোভাবে সমস্যাটা ঠিকই সমাধান হয়ে যেত।
আজ সেই মানুষটাই আমার উপর সব দায়িত্ব ফেলে, চলে গেছে... চিরদিনের জন্য।

১৮ জুলাই সন্ধ্যায় ও বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমি বারবার নিষেধ করছিলাম। কিন্তু ও মুচকি হেসে বকা দিয়ে বলল, 'প্যানিক করতেছ কেন? নিচেই তো যাচ্ছি।'
আমি তখন বলেছিলাম, 'প্যানিকটা শুধু দেখতেছ, ভালোবাসাটা দেখতেছ না?'
আমার কথা শুনে খাটের পাশে দাঁড়িয়ে হালকা হেসেছিল ও—সেই হাসিই ছিল আমাদের শেষ।

এর কিছুক্ষণ পর আজিমপুর মোড়ে ছাত্রদের ধাওয়া করে পুলিশ সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে নিয়ে আসে। দুলাল তখন নিচে বসা।
পুলিশ গেটের চাবি চায়, আর ও শুধু বলে, 'চাবি আমার কাছে নাই।' এরপরই গুলির শব্দ!

ও নিজেই আমাকে ফোন করে। কাঁপা গলায় বলে, 'গুলি লাগছে।'
দৌড়ে নিচে নামি, গিয়ে দেখি রাস্তা রক্তে ভেজা। দুলালের সাদা টি-শার্টটা পুরো লাল। আমার দিকে তাকিয়ে ছিল ও—চোখে যেন বলছিল, 'তুমি তো বলছিলে যেও না।'

পরদিন ১৯ জুলাই সকালে হাসপাতালে দুলাল মারা যায়। শরীরে রক্ত ছিল না বললেই চলে।

গ্রামে একটা জমি কিনে রেখেছিল দুলাল, স্বপ্ন ছিল, একদিন সেখানে একটা বাড়ি করবে।
সেই স্বপ্নের জমিতেই আজ ও ঘুমিয়ে আছে।"

— ফারহানা রহমান
(শহিদ দুলাল মাহমুদের স্ত্রী)

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.