ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স, মাখোঁর ঘোষণা
জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে জি-৭ জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সই প্রথম দেশ হিসেবে এই স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে।
এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় মাখোঁ লেখেন, “গাজায় চলমান যুদ্ধ এখনই থামাতে হবে। মানুষকে রক্ষা করতে হবে। শান্তি সম্ভব—এর জন্য দরকার অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, সকল জিম্মির মুক্তি এবং গাজাবাসীর জন্য মানবিক সহায়তা।”
তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক শান্তির লক্ষ্যে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। আমাদের একদিকে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে, অন্যদিকে গাজা পুনর্গঠন ও নিরাপদ করতে হবে।”
ফ্রান্সের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে পাঠানো এক চিঠিতে মাখোঁ সিদ্ধান্তের কথা জানান। আব্বাসের ডেপুটি হুসেইন আল শেখ বলেন, “এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ফ্রান্সের শ্রদ্ধা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থনের প্রমাণ।”
তবে ফরাসি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “৭ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলার পর এই স্বীকৃতি মূলত সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার শামিল। ফিলিস্তিনিরা স্বাধীন রাষ্ট্র নয়, বরং ইসরায়েল ধ্বংস করেই নিজেদের রাষ্ট্র গড়তে চায়।”
হামাস ফ্রান্সের ঘোষণাকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছে এবং অন্যান্য দেশগুলোকেও একই পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪০টিরও বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্পেন ও আয়ারল্যান্ড ইতোমধ্যে রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা শক্তিগুলো এখনো এ পথে হাঁটেনি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, “ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রীয় অধিকার অবিচ্ছেদ্য।” গাজায় রক্তপাত বন্ধে ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপের কথাও জানান তিনি।
সৌদি আরব ফ্রান্সের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, “এটি প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক সমাজ ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারকে সম্মান করে।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়। জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক হামলা চালায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৯ হাজার ১০৬ জন নিহত হয়েছেন এবং অঞ্চলটির অধিকাংশই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানায়, গাজায় প্রতি পাঁচ শিশুর একজন এখন অপুষ্টিতে ভুগছে। শতাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, সেখানে গণ-অনাহারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং তা রোধে জরুরি পদক্ষেপ দরকার।
তবে ইসরায়েল বলছে, অবরোধ নয় বরং গাজায় সংকটের জন্য দায়ী হামাস।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

No comments
ধন্যবাদ।