Header Ads

Header ADS

জামায়াত আমিরকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল

জামায়াত আমিরকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে দলের আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য চলাকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে হঠাৎ করে পড়ে যান তিনি। নেতাকর্মীদের সহায়তায় উঠে দাঁড়ালেও কিছুক্ষণ পর আবারও অসুস্থ হয়ে যান। এরপর বসে থেকেই বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

শনিবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গরমের মধ্যেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন সমাবেশস্থলে। সেখানে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থনের শহীদ পরিবার ও আহত অনেকে।

সমাপনী বক্তব্য দিতে উঠে শফিকুর রহমান বলেন, “একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। জামায়াত যে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়বে, তার প্রথম প্রমাণ হচ্ছে…” — এই পর্যন্ত এসে তিনি হঠাৎ পড়ে যান। কিছু সময় পর উঠে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহর শুকরিয়া, আবার আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পেরেছি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জামায়াত যদি আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের ভালোবাসায় ক্ষমতায় আসে, তাহলে সরকার পরিচালনায় মন্ত্রী-এমপিরা সেবক হিসেবে কাজ করবেন, মালিক নয়।”

কিন্তু এ কথা শেষ করতেই আবারও অসুস্থ হয়ে নিচে বসে পড়েন তিনি। মঞ্চ থেকে জানানো হয়, প্রচণ্ড গরমে তিনি সাময়িকভাবে অসুস্থ হয়েছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আর বক্তব্য না দেওয়াই উত্তম। তবে তিনি বসেই আবারও মাইকে বলেন, “আমার যত হায়াত আছে, তা মানুষের জন্যই ব্যয় করব, ইনশা আল্লাহ। আমাদের লড়াই চলবে, যতক্ষণ না দেশের মানুষ মুক্তি পায়।”

বক্তব্যের শেষ অংশে শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন— জামায়াত ক্ষমতায় এলে কোনো এমপি বা মন্ত্রী সরকারি প্লট নেবেন না, ট্যাক্সবিহীন গাড়ি ব্যবহার করবেন না, নিজের হাতে সরকারি অর্থ পরিচালনা করবেন না। প্রতিটি খরচের জবাবদিহিতা জনতার কাছে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, “চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি করব না। কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না।”

বক্তব্য শেষে তিনি বলেন, “আমার মৃত্যু আল্লাহর নির্ধারিত সময়েই হবে। যতক্ষণ হায়াত আছে, ততক্ষণ মানুষের পাশে থাকব।” এ সময় মঞ্চে তাকে দুই পাশ থেকে ধরে রাখেন দলের দুই নেতা।

সংখ্যানুপাতিক ভোটব্যবস্থা চালুসহ সাত দফা দাবিতে আয়োজিত এই জাতীয় সমাবেশে দেশজুড়ে জামায়াতের বিপুল কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। বিকেল ২টায় মূল পর্ব শুরু হয় এবং আমিরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে। সমাবেশ শেষে জামায়াতের আমিরকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে হাসপাতালে দেখতে যাবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে সেখানে যাবেন বিএনপি মহাসচিব।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.