ফ্লাইটেই চিরবিদায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের
স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার, প্রথম সলো ফ্লাইটেই চিরবিদায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের
ছোটবেলা থেকেই ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণের পথেই এগোচ্ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তার প্রাণ।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চৌকস অফিসার তৌকির ইসলাম সাগরের আজ ছিল প্রথম একক উড্ডয়ন—পেশাদার jargon-এ যাকে বলা হয় ‘সলো ফ্লাইট ট্রেনিং’। এটি একজন ফাইটার জেট পাইলটের প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত ধাপ, যা তার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের এক বড় প্রমাণ।
তৌকির আজ সেই সলো ফ্লাইট পরিচালনা করছিলেন। দিনটি তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের ও রোমাঞ্চের স্মৃতি হতে পারত, যদি না ভাগ্য এতটা নির্মম হতো। যেদিন তিনি আকাশ জয় করতে চেয়েছিলেন, সেদিনই তিনি চিরতরে হারিয়ে গেলেন—নিমেষে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল তার স্বপ্ন।
এক বছর আগেই হয়েছিল বিয়ে
মাত্র এক বছর আগে বিয়ে করেছিলেন তৌকির। তার স্ত্রী শিক্ষকতা করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। শ্বশুরবাড়ি গাজীপুরের জয়দেবপুরে। শ্বশুর আবুল হোসেন জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক।
একরোখা স্বপ্ন ও মেধার গল্প
সাগরের মামা শওকত আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তৌকির পাইলট হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। পরিবার চেয়েছিল তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিন, কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরেননি। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত রাজশাহী সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়াশোনা করেন, এরপর ভর্তি হন পাবনা ক্যাডেট কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক শেষে যোগ দেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে।
ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও হতাহতের মিছিল
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৮ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭০ জনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
একজন মেধাবী তরুণের স্বপ্নের উড্ডয়ন শেষ হয়ে গেল শোক আর বেদনার ধ্বংসস্তুপে।

No comments
ধন্যবাদ।