Header Ads

Header ADS

নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

 

নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

দক্ষিণাঞ্চলের ১১ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট আকস্মিক নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে ভারী বৃষ্টি। ফলে অন্তত ১১টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আরও কয়েকটি নদীর পানি রয়েছে বিপৎসীমার কাছাকাছি। এর ফলে উপকূলীয় জনপদে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তি।

তবে এখন পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল নৌপথে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নদী বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন।

বৃষ্টি ও বাতাসের তথ্য

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এলাকায় ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঘণ্টায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ১০ কিলোমিটার। আবহাওয়ার এমন অবস্থা আগামী ২-৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে, পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং নদীবন্দরগুলোতে রয়েছে ১ নম্বর সংকেত। বর্তমানে ভোলা-ইলিশা নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। জোয়ারের কারণে উপকূলীয় অনেক জনপদ ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে।

পানির উচ্চতা: কোথায় কত?

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পানির উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার রিপোর্ট অনুযায়ী বিপৎসীমার ওপরে থাকা নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • কীর্তনখোলা (বরিশাল) – ৩০ সেন্টিমিটার
  • বিষখালী (ঝালকাঠি) – ১৬ সেন্টিমিটার
  • বিষখালী (বেতাগী, বরগুনা) – ৫২ সেন্টিমিটার
  • সুরমা-মেঘনা (দৌলতখান, ভোলা) – ৮২ সেন্টিমিটার
  • সুরমা-মেঘনা (তজুমদ্দিন, ভোলা) – ১৬৫ সেন্টিমিটার
  • বুড়িশ্বর/পায়রা (মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী) – ২৯ সেন্টিমিটার
  • বুড়িশ্বর/পায়রা (আমতলী, বরগুনা) – ১৮ সেন্টিমিটার
  • বিষখালী (বরগুনা সদর) – ৩১ সেন্টিমিটার
  • বিষখালী (পাথরঘাটা) – ৪৫ সেন্টিমিটার
  • কচা নদী (উমেদপুর) – ২৩ সেন্টিমিটার
  • বলেশ্বর (পিরোজপুর) – ৩২ সেন্টিমিটার

এছাড়া, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের বহু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়রা।

বন্যার আশঙ্কা নেই, দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের

এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন,
“অমাবস্যার কারণে নদীতে জোয়ারের চাপ বেড়েছে, সে কারণেই পানির উচ্চতা বেড়েছে। তবে এটি মৌসুমি জোয়ার, এখনও পর্যন্ত কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই।”

তবে তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর পানি প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি উন্নয়ন বা অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাৎক্ষণিক জানানো হবে।

সতর্কতা ও প্রস্তুতি

বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতি স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নৌচলাচল, নদীতীরবর্তী জনপদ ও নিচু এলাকা ঘিরে পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.