মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: মৃত্যুর মিছিল থামছে না
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। আজ শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জারিফ মারা গেছে।
চিকিৎসকরা সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নিয়ে দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৪ জনে। তবে জারিফের মরদেহ এখনো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানা গেছে।
গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ৬ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিমানবাহিনীর এ কে খন্দকার ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে সেটি। পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকীর ইসলাম বিমানটিকে জনবসতি এড়িয়ে নিরাপদ এলাকায় নামানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হননি। মাত্র ১২ মিনিট পর, দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে যুদ্ধবিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দগ্ধ ও আহতদের দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ জন, যাদের অধিকাংশই শিশুশিক্ষার্থী। আরও প্রায় ৫০ জন চিকিৎসাধীন আছেন, যাদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
আহতদের চিকিৎসায় চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল এসেছে, যারা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
ঘটনার পরই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। কমিটি দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে প্রতিবেদন দেবে বলে জানানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিমান দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

No comments
ধন্যবাদ।