Header Ads

Header ADS

ফিরে দেখা রক্তাক্ত ৩০ জুলাই : কোটা সংস্কার আন্দোলন


২০২৪ সালের ৩০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নতুন এক মোড় নেয়। এদিন ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা, যা ৯ দফা দাবির ভিত্তিতে পরদিন থেকে সারাদেশে শুরু হয়। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আদালত চত্বর ও প্রধান প্রধান সড়কে ছড়িয়ে পড়ে এই কর্মসূচি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এদিন রীতিমতো বিপ্লবের আবহ তৈরি হয়। ফেসবুকে হাজারো মানুষ প্রোফাইল ছবিতে লাল রঙ ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান। শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরাও রক্তের রঙে রাঙানো ছবিতে লেখেন—"শুধু কোটা নয়, গোটা দেশটার সংস্কার প্রয়োজন।"

একইদিন দেশজুড়ে শিশুহত্যা আর বিক্ষোভে বেদনায় নুয়ে পড়ে গোটা জাতি। আহাদ, রিয়া গোপ, মোবারক, সামি, হোসাইন, তাহমিদ, সাদ মাহমুদ, নাঈমা ও ইফাত—তাদের নাম একেকটা বুলেটবিদ্ধ হৃদয়ের গল্প। কেউ মায়ের কোলে, কেউ ছাদে খেলতে গিয়ে, কেউ জানালা বন্ধ করতে গিয়েই গুলিতে প্রাণ হারায়। তাঁদের মৃত্যু সংখ্যার গণ্ডি ছাড়িয়ে এক গভীর জাতীয় শোকের প্রতীক হয়ে ওঠে।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এই শোককে রূপ দেয় প্রতিবাদে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আড়াই ঘণ্টার গান ও কবিতায় তারা জানান সাম্প্রতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান। যদিও পুলিশি বাধায় তা পূর্ণতা পায়নি।

এদিকে সিএমএম আদালত চত্বরে স্বজনদের কান্না ভারী করে তোলে পরিবেশ। প্রিজন ভ্যানে থাকা প্রিয়জনকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন স্বজনরা। একই সময়ে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন—সহিংসতার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় সরকারের হাতে রয়েছে।

অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করার আলোচনা মূল ইস্যু থেকে নজর সরানোর রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।

সেদিন আদালতে চলছিল রিটের শুনানি। আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের ডিবি হেফাজতে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত—যেহেতু তারা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেননি, তাহলে কেন তাদের আটকে রাখা হয়েছে? উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে একাধিকবার বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় আদালত কক্ষে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছিল, সহিংসতা-সংক্রান্ত ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬৪টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩টি হত্যা মামলা। গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই হাজার আটশোরও বেশি মানুষ।

সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিটিভি ভবন পরিদর্শন করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা জানান—মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি এবং তাদের উত্তরসূরিরাই এই সহিংসতা চালিয়েছে।

ঢাকা মেডিকেলের সামনে মৌন অবস্থানে বসতে চেয়েও অনুমতি না পেয়ে পিছু হটতে হয় অভিভাবকদের। একইদিন ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ’ ১১ দফা দাবি তোলে, যার মধ্যে রয়েছে হতাহতদের তালিকা প্রকাশ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহতদের দেখতে যান সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এবং সরকারের পক্ষ থেকে শোক পালন করা হয়। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল—"গুলি চালিয়ে মানুষ মেরে শোকের নাটক সাজিয়েছিল হাসিনা।"

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.