Header Ads

Header ADS

ফিরে দেখা রক্তাক্ত ২৭ জুলাই : কোটা সংস্কার আন্দোলন

 

ফিরে দেখা রক্তাক্ত ২৭ জুলাই : কোটা সংস্কার আন্দোলন

কোটা সংস্কার আন্দোলন: ডিবির হেফাজতে আরও দুই সমন্বয়ক, নিহত ২৬৬, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

২০২৪ সালের ২৭ জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন–এর আরও দুই সমন্বয়ক সারজিস আলমহাসনাত আব্দুল্লাহ–কে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেয়। এর আগে ২৬ জুলাই বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবির হেফাজতে নেওয়া হয় আরও তিন নেতা—নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াআবু বাকের মজুমদার। এ নিয়ে এ আন্দোলনের পাঁচজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এখন গোয়েন্দা হেফাজতে রয়েছেন।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার জুনায়েদ আলম সরকার জানান, “গত কয়েক দিনের ঘটনায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তার স্বার্থে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীদের দাবি ও আলটিমেটাম

২৭ জুলাই রাতে অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা সরকারের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করে এবং ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। দাবিগুলো হলো:

  1. আটক সব শিক্ষার্থী, বিশেষ করে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের নিঃশর্ত মুক্তি

  2. শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার

  3. সংঘর্ষে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় দায়ী মন্ত্রী থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সবার বিচার

মাহিন সরকার নামের এক সমন্বয়ক অভিযোগ করেন, “সরকার দাবি করছে আমাদের দাবি পূরণ হয়েছে, কিন্তু আমরা একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠন করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে এসেছি। সেটি হয়নি, তাই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছি।”

আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, “এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে, সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”

সহিংসতা, গ্রেপ্তার ও নিহতের চিত্র

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২৬৬ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারীরা। ঢাকাসহ সারা দেশে মামলা হয়েছে ৭৩৬টির বেশি, যার মধ্যে ঢাকাতেই ২০৭টিগ্রেপ্তার ৭ হাজার ছাড়িয়েছে, এর মধ্যে ঢাকায় গ্রেপ্তার ২,৫৩৬ জন, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৭১ জন

মানবাধিকার, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

আন্দোলনের সমন্বয়কদের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (HRFB)। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হয়রানি বন্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা চায়।

ডিবি কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে তিন শিক্ষার্থীর খোঁজে যান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। তবে ডিবি প্রধান তাদের সঙ্গে দেখা করেননি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমান সংকট নিরসনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজন জরুরি।”

বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট, সিপিবি, বাংলাদেশ জাসদসহ বামপন্থি সংগঠনগুলো সমন্বয়কদের হেফাজতে নেওয়াকে “নজিরবিহীন ন্যক্কারজনক ঘটনা” আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

ঢাকায় অবস্থিত ১৪টি কূটনৈতিক মিশন এক যৌথ চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী-কে চলমান সহিংসতা ও প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক দেশ।

সরকারি অবস্থান ও পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেন, পরিদর্শন করেন সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজা।

ওবায়দুল কাদের জানান, “মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে। এক্সপার্টদের মতে, এটি এক বছরের মধ্যেও পুনরায় সচল করা যাবে না।”

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসে ২৮–৩০ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান শনিবার রাতে জানান, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় কারফিউ ১১ ঘণ্টা শিথিল থাকবে—সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিক্ষার্থী উদ্যোগ

আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছে, আগামীকাল রবিবার থেকে:

  • অনলাইন-অফলাইনে প্রচার অভিযান
  • বিভিন্ন দূতাবাসে স্মারকলিপি
  • দেশব্যাপী দেয়াল লিখন
  • ‘হেলথ ফোর্স’ গঠন করে আহত-নিহতদের তালিকা ও সহায়তা
  • ‘লিগ্যাল ফোর্স’ গঠন করে মামলা পর্যবেক্ষণ ও আইনি সহায়তা প্রদান

অবসান ও অপেক্ষা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও পরিস্থিতির কারণে আপাতত তারা কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না

এদিকে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও ক্রমবর্ধমান গ্রেপ্তার অভিযানের মধ্যেই দেশজুড়ে ধীরে ধীরে জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।


এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) গিয়েছেন আহতদের দেখতে। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন কয়েকজন গুরুতর আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট সহিংসতায় আহত বহু ব্যক্তি বর্তমানে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং টোল প্লাজাও ঘুরে দেখেন।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.