জুলাই শহীদ পরিবারকে স্থায়ী আবাসন, একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়
জুলাই শহীদ পরিবারকে স্থায়ী আবাসন দেবে সরকার, একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় দুই বড় প্রকল্প
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোর জন্য রাজধানীর মিরপুরে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়েছে, যার আওতায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের নির্মাণমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা, তবে পরিবারগুলো তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবে।
প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আসন্ন সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। একই সভায় উপস্থাপন করা হবে ‘দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ’ প্রকল্পটিও।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৯১০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
৮০৪ ফ্ল্যাটের ‘৩৬ জুলাই’ প্রকল্প
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নে, ‘৩৬ জুলাই আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হবে। এতে ব্যয় হবে ৭৬১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ১৪ নম্বর সেকশনে, পুলিশ লাইন্সের পাশে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জমিতে গড়ে তোলা হবে ছয়টি ১৪ তলা ও ১২টি ১০ তলা ভবন। প্রতিটি ফ্ল্যাট হবে ১,৩৫৫ বর্গমিটার আয়তনের।
নির্মাণ শেষ হওয়ার পর, এসব ফ্ল্যাট শহীদ পরিবারগুলোর মাঝে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটে থাকবে উন্নতমানের স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক ফিটিংস, লিফট, জেনারেটর, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, সোলার প্যানেল ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংয়ের ব্যবস্থা। এ ছাড়া কমিউনিটি ভবন, খেলার মাঠ, নিজস্ব গভীর নলকূপ, ড্রেনেজ ও বহির্বিদ্যুৎ সংযোগসহ প্রয়োজনীয় সব নাগরিক সুবিধাও থাকবে।
প্রকল্পটি জুলাই ২০২৫-এ শুরু হয়ে ২০২৯ সালের জুনে শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের দলিল সংরক্ষণের প্রকল্প
একই সভায় উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ’ প্রকল্পটি। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ। ইতোমধ্যে এটি পরিকল্পনা উপদেষ্টার অনুমোদন পেয়েছে এবং এখন একনেক সভায় অবহিতকরণ পর্যায়ে রয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় দেশে ও বিদেশে ধারণ করা সব অডিও-ভিজ্যুয়াল ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেমন আলজাজিরা, বিবিসি, সিএনএন ও রয়টার্স থেকেও দলিল সংগ্রহ করা হবে। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ কোটি টাকা।
আরও ১২ প্রকল্প একনেকে
চলতি অর্থবছরের প্রথম একনেক সভায় আরও ১২টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ৭টি নতুন, ৪টি সংশোধিত ও ২টি মেয়াদ বাড়ানো প্রকল্প রয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর সড়ক নির্মাণ (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)
- ২০টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন
- কন্দাল ফসল গবেষণা জোরদারকরণ (কৃষি মন্ত্রণালয়)
- স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং (বিপিডিবি)
এছাড়া ১৭টি ইতোমধ্যে অনুমোদিত প্রকল্প একনেক সদস্যদের অবহিত করার জন্য তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
- গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন (২য় সংশোধিত)
- ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন
- ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ
- বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
- গাজীপুর সাফারি পার্ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন
- অস্ত্রাগার নির্মাণ (আনসার বাহিনী)
- রাজশাহী মহানগর অবকাঠামো উন্নয়ন
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদ পরিবারসহ সাধারণ নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে সরকার।

No comments
ধন্যবাদ।