রাজনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
রাজনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সম্ভাবনা ও সংকট
বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও প্রযুক্তির ব্যবহারে আসছে পরিবর্তন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন রাজনীতির মঞ্চেও নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের হাত ধরে রাজনীতিতে এআইয়ের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এআই-নির্ভর ছবি ও ভিডিওর বন্যা দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের পক্ষে প্রচারে যেমন এআই ব্যবহার করছে, তেমনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ডিজিটাল অপতথ্যের বিস্তার যেমন বাড়ছে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, তারা এসব অপতথ্য মোকাবিলায় নিজেদের কর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) – এই তিন দলের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নানা প্রচার-প্রতিপ্রচার। এআই ব্যবহার করে নেতিবাচক ভিডিও ও ছবি বানিয়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফেসবুককেন্দ্রিক এই প্রচারণাকে ঘিরে দলগুলোর মধ্যে চলছে দোষারোপ। বিএনপিকর্মীরা দায় দিচ্ছেন জামায়াত-শিবির ও এনসিপি নেতাকর্মীদের। অন্যদিকে, জামায়াত ও এনসিপি নেতাকর্মীরা বলছেন, এসব অপপ্রচারের পেছনে রয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পলাতক কর্মীরা। এসব নিয়ে ফেসবুকে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে তীব্র বিতণ্ডাও।
অপতথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ডিসমিস ল্যাব সম্প্রতি জানায়, এআই শুধু অপপ্রচারে নয়, রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ানোর উদ্দেশ্যেও ব্যবহার হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “বিএনপি গণমানুষের দল। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করি। তবে বর্তমানে এআই দিয়ে তৈরি অনেক ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, যা রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরণের মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে আমাদের অ্যাকটিভিস্টরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, এআই দিয়ে তৈরি অপপ্রচারের জবাবে বাস্তবতাভিত্তিক ‘কাউন্টার ন্যারেটিভ’ তৈরি করে দলের কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, “সাইবার স্পেসে কীভাবে ইতিবাচক রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো যায়, তা নিয়ে আমরা দলীয়ভাবে ভাবছি। প্রচারে এআই ব্যবহার সমস্যা নয়, তবে এটি হিংসা বা ভুল তথ্য ছড়াতে ব্যবহৃত হলে তা রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, “এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট রাজনৈতিক সহনশীলতাকে নষ্ট করতে পারে। আমাদের তরুণ নেতৃত্ব এসব প্রচারণার বিরুদ্ধে ‘ডিবাঙ্কিং’-এ (মিথ্যা প্রমাণে) কাজ করছে।”
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক ফাহিম মাশরুর বলেন, “প্রযুক্তির এই যুগে এআই-নির্ভর প্রচারণা থামানো কঠিন। তবে নেতিবাচক ও উস্কানিমূলক কনটেন্ট থেকে বিরত থাকা উচিত। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত তাঁদের কর্মীদের এই বিষয়ে সতর্ক করা, কারণ প্রযুক্তি সম্পর্কে যাদের জ্ঞান কম, তারা সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারে।”

No comments
ধন্যবাদ।