Header Ads

Header ADS

ছেলে হত্যার দ্রুত বিচার চান শহীদ মাসুদের মা

শহীদ মাসুদ

ছেলে হত্যার দ্রুত বিচার চান শহীদ মাসুদের মা, বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দাবি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছেলে হত্যার বিচার যেন জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারেন—এমনই আকুতি জানিয়েছেন শহীদ সরোয়ার জাহান মাসুদের মা বিবি কুলসুম। তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর আবেদনও জানিয়েছেন।

শোকাহত এই মা বলেন, ‘ছেলেকে হারিয়ে আমি বেঁচে আছি শুধু ন্যায়বিচারের আশায়। যারা গুলি করে আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে, তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।’

তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন মাসুদ। প্রবাসী বাবাকে দেশে ফিরিয়ে এনে সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল তার। সেই স্বপ্ন থেমে যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

২০২৫ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপাল এলাকায় আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ফেনী সরকারি কলেজের বিএসএস প্রথম বর্ষের ছাত্র মাসুদ।

তার জন্ম ২০০৩ সালের ২৩ নভেম্বর, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার উত্তর জয়লস্কর মীরবাড়িতে। তিনি ২০২০ সালে সিলোনিয়া হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ২০২২ সালে দাগনভূঞা সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন মাসুদ ও তার ছোট ভাই মাসুম। ৪ আগস্ট মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর দুপুর ২টার দিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। মাসুদের বুকে দুটি ও হাতে একটি গুলি লাগে।

আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দাগনভূঞার বেকেরবাজার এলাকায় বাধা দেয় ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। পরিবারের সদস্যদেরও সেখানে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে যাওয়ার সময়ও বাধা দেওয়া হয়। অবশেষে গভীর রাতে লাশ হস্তান্তর করে তা রাতেই দাফন করতে বাধ্য করা হয় পরিবারকে।

এ ঘটনায় নিহতের মা বিবি কুলসুম ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীকে প্রধান আসামি করে ১৩৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন দাগনভূঞা থানায়।

ছেলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন বিবি কুলসুম। এখনও ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি তিনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেনী জেলা প্রতিনিধি ওমর ফারুক শুভ বলেন, ‘মাসুদ ছিল আমার সহযোদ্ধা। ৩ আগস্ট সে আমার পাশে আন্দোলনে ছিল, আর ৪ আগস্ট সে শহীদ হলো। মাসুদের মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা তার দ্রুত বিচার চাই।’

ফেনী মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান বলেন, ‘এ মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়ায় চার্জশিট দাখিল করা হবে।’

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.