Header Ads

Header ADS

১২ জুলাই : কোটা সংস্কার আন্দোলন

১২ জুলাই : কোটা সংস্কার আন্দোলন
ছুটির দিনেও রাজপথে শিক্ষার্থীরা, দেশজুড়ে বিক্ষোভ—নৃশংসতার প্রতিবাদ, আন্দোলনে নতুন গতি

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলন শুক্রবার (১২ জুলাই) ১২তম দিনে প্রবেশ করে। সপ্তাহের ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও এদিন সারাদেশেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শহরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন।

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

এর আগে ১১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা এবং টিয়ার শেল ও লাঠিচার্জে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। সেই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকার শাহবাগে বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয় কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ। বিকেলে বৃষ্টির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়ে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন। ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে যোগ দেন। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।

আগামী কর্মসূচি ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার শাহবাগে বলেন,

“শনিবার (১৩ জুলাই) ৬৪ জেলায় অনলাইন ও অফলাইনে প্রতিনিধি সম্মেলন হবে। সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে। সরকারকে আমাদের এক দফা দাবি মানতেই হবে।”

সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবাদ

এদিন দেশের অন্তত ১৫টি শহরে বড় ধরনের কর্মসূচি হয়।

  • রাজশাহী: বিকেল ৫টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।
  • চট্টগ্রাম: ষোলশহর রেলস্টেশন থেকে শুরু হয়ে আলমাস মোড়ে গিয়ে শেষ হয় বিক্ষোভ মিছিল, যেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেন।
  • রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শেষে পুলিশ বাধা দেয় শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে।
  • কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, নীলফামারী, বগুড়ানোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন।
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বাহাদুর শাহ পার্ক হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

তবে মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের মানববন্ধনে বাধা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশি মামলা ও সরকারের প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার রাতে শাহবাগ থানায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের পরিবহন বিভাগের গাড়িচালক খলিলুর রহমান। মামলায় অজ্ঞাতনামা আন্দোলনকারীদের আসামি করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এদিন মন্তব্য করেন,

“যারা একসময় দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আজও তারাই এই আন্দোলনে নেপথ্যে থাকতে পারে। জনগণের জানমাল রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব, কেউ বাধা দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,

“এই আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির হাত রয়েছে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান সতর্ক করে বলেন,

“আদালতের প্রতি সম্মান থাকা উচিত। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থীরা এখনো তাদের এক দফা—সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে অনড়। আন্দোলনের বিস্তার ও সাহসিকতায় স্পষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি গণআন্দোলনের দিকে এগোচ্ছে এই কোটাবিরোধী ছাত্রজাগরণ।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.