Header Ads

Header ADS

“দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে, রাত ১০টায় গুলি খেয়ে সোহাগ মারা যাবে—এটা কখনো কল্পনাও করিনি…”

 

— সাবিনা আক্তার রিমা, শহিদ মোহাম্মদ সোহাগের স্ত্রী

“দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে, রাত ১০টায় গুলি খেয়ে সোহাগ মারা যাবে—এটা কখনো কল্পনাও করিনি…”
সাবিনা আক্তার রিমা, শহিদ মোহাম্মদ সোহাগের স্ত্রী

সোহাগ আর আমার ১১ বছরের সম্পর্ক। ২০১৯ সালে আমাদের বিয়ে হয়। এরপর আসে আমাদের ছেলে, শেহরান।
ছেলের সঙ্গে সোহাগের সম্পর্কটা ছিল একদম আলাদা রকমের। বাইকে করে শেহরানকে নিয়ে ও ঘুরে বেড়াত পুরান ঢাকার অলিগলিতে।

বংশালে ওর সেলাইমেশিনের একটা ছোট্ট ব্যবসা ছিল। জন্ম থেকে মৃত্যু—পুরো জীবনটাই সেখানেই কেটেছে ওর। এমনকি গুলিটাও খেয়েছে বংশালেই।
গত জুলাইয়ে ব্যবসাটা একটু খারাপ যাচ্ছিল, তখন থেকেই ও পাঠাও চালাতে শুরু করে। আমি ভেবেছিলাম, জীবিকার জন্যই করছে।
পরে ওর ফোনে কিছু আন্দোলনের ভিডিও পেয়ে জানতে পারি, সে এই আন্দোলনের মধ্যেও জড়িয়ে পড়েছে।
তখন সোহাগ বলেছিল,
“রিমা, এটা দেশের প্রতি আমার দায়িত্ব। যদি মরে যাই, তবুও তুমি আর শেহরান বলতে পারবা—তোমরা শহিদের পরিবার।”

৫ আগস্ট রাতে প্রথম আমাকে ফোন দেয়। বলছিল,
“হাসিনা পালিয়েছে। এখন দেশ নিরাপদ। তুমিও বের হও, বিজয়ের মিছিলে।”
কিন্তু সেই "নিরাপদ দেশেই" সে গুলিতে প্রাণ হারায়—কে জানতো এমনটা হবে!

রাত ১০টার দিকে বংশাল থানার সামনেই গুলিবিদ্ধ হয় সোহাগ। গুলিটা বুকে লাগে, শরীরেই আটকে যায়। সামনে এগোবার চেষ্টা করেছিল, মাত্র দুই-তিন কদম যাওয়ার পরই পড়ে যায় মাটিতে।

আমরা যখন মিটফোর্ড হাসপাতালে পৌঁছাই, তখন জরুরি বিভাগের সামনের রাস্তায় ৪টা মরদেহ পড়ে ছিল। ভেতরে নেওয়াও হয়নি কাউকে।
তাদেরই একজন ছিল আমার সোহাগ!
মনে হচ্ছিল, যে মানুষ বিছানায় সামান্য একটা কাঁকর থাকলেও ঘুমোতে পারত না—সে আজ রাস্তায় পড়ে আছে, নিথর!

রাত ৩টার সময় যখন ওকে গোসল দেওয়া হচ্ছিল, তখনও চারপাশে গুলির শব্দ। ছিটা গুলি এসে লাগছিল আমাদের শরীরে। বারবার দৌড়ে বাসায় ঢুকে পড়ছিলাম।
শেহরান সারা রাত ঘুমায়নি। কাঁদতে কাঁদতে বলছিল,
“আব্বু উঠুক, আব্বুর সাথে ঘুমাব।”
সে জানত না, তার বাবা কোনোদিন আর উঠবে না।

এক বছর হয়ে গেল। কোনো বিচার নেই। কোনো অগ্রগতি নেই।
আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, আর সেই আসামিদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তদন্তের।
এই বিচারহীনতা আরও বেশি কষ্ট দেয়…

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.