হজের পাঁচ দিনের করণীয়
প্রথম দিন (৮ জিলহজ): ইহরাম বাঁধা ও মিনায় যাত্রা
- ইহরাম বাঁধা: হজের নিয়তে পুরুষরা সেলাইবিহীন দুই টুকরো সাদা কাপড় পরেন; নারীরা সাধারণ পোশাকেই নিয়ত করেন।
- মিনায় গমন: ইহরাম বাঁধার পর হজযাত্রীরা মিনার উদ্দেশে রওনা হন।
- মিনায় অবস্থান: জোহর থেকে পরদিন ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। সময় কাটে দোয়া, তাসবিহ ও কোরআন তিলাওয়াতে।
দ্বিতীয় দিন (৯ জিলহজ): আরাফাত ও মুজদালিফায় অবস্থান
- আরাফাতে যাত্রা: সকাল বেলায় মিনার তাঁবু ছেড়ে আরাফাতে যাওয়া হয়। এ সময় তাকবির পাঠ করা হয়।
- আরাফাতে অবস্থান: হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করে জোহর ও আসরের নামাজ আদায়, দোয়া, ইস্তিগফার ও কান্নাকাটি করা হয়।
- মুজদালিফায় যাত্রা: সূর্যাস্তের পর মাগরিব না পড়ে মুজদালিফার উদ্দেশে যাত্রা করা হয়। সেখানে মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করা হয়।
তৃতীয় দিন (১০ জিলহজ): পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি ও ইহরাম ত্যাগ
- মুজদালিফায় রাত যাপন: খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন এবং সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করা সুন্নত ও ওয়াজিব।
- পাথর সংগ্রহ: মুজদালিফায় শয়তানকে মারার জন্য ৭০টি ছোট পাথর সংগ্রহ করা হয়।
- জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ: সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা হয় বড় জামরাতে।
- কোরবানি: পাথর নিক্ষেপের পর কোরবানি ওয়াজিব। পশু হতে হবে হালাল ও ত্রুটিমুক্ত।
- মাথা মুণ্ডন/চুল কাটা: কোরবানির পর ইহরাম ত্যাগ করা হয়।
- তাওয়াফে জিয়ারত: সম্ভব হলে এদিনই কাবা শরিফে হজের ফরজ তাওয়াফ সম্পন্ন করা হয়।
চতুর্থ দিন (১১ জিলহজ): জামরাতে পাথর নিক্ষেপ
- মিনায় অবস্থান: জামরাতুল উলা (ছোট), জামরাতুল উস্তা (মধ্যম), ও জামরাতুল আকাবা (বড়)—এই তিনটিতে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা হয়।
- তাওয়াফে জিয়ারত: ১০ তারিখে যদি না করা হয়, তবে আজ বা আগামী দিনের মধ্যে তা আদায় করতে হবে।
পঞ্চম দিন (১২ জিলহজ): শেষ দিনের পাথর নিক্ষেপ ও প্রত্যাবর্তন
- জামরাতে পাথর নিক্ষেপ: আগের দিনের মতো তিন জামরাতে ২১টি পাথর নিক্ষেপ।
- মক্কায় ফেরা: সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করে মক্কায় ফিরে যাওয়া যায়। কেউ চাইলে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় থেকে আরও একদিন পাথর নিক্ষেপ করতে পারেন।
- তাওয়াফে বিদা: হজ শেষ করে মক্কা ত্যাগের আগে বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফে বিদা) করা ওয়াজিব।
হজের এই পাঁচ দিনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের প্রতীক। আরাফাতে অবস্থান, তাওয়াফে জিয়ারত ও কোরবানি হজের মূল রোকন, যা হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত ইসমাইল (আ.) ও হজরত হাজেরা (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মৃতি জাগ্রত করে। এই আমলগুলো মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে দৃঢ় করে।

No comments
ধন্যবাদ।