Header Ads

Header ADS

বাংলাদেশের রাজনীতি: এগিয়ে আসছে নির্বাচন

বাংলাদেশের রাজনীতি: এগিয়ে আসছে নির্বাচন

বাংলাদেশের রাজনীতি: সংস্কারের পথে অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে। যদিও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলসহ অনেকে এই সময়সীমা নিয়ে সন্দিহান, সরকারের উপদেষ্টারা বারবার আশ্বস্ত করছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তবে নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সেই সংস্কার বাস্তবায়নের পথ মোটেই সহজ হচ্ছে না।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তী সরকারের উত্থান

দ্য ইকোনমিস্টের এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সরকারের অধীনে ইতোমধ্যে প্রায় ৯ মাস কেটেছে। তবে সংস্কার বাস্তবায়ন বা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যার বিচারে এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

ড. ইউনূস বলেন, "১৬ বছর ধরে চলা ভয় ও নিপীড়নের রাজনৈতিক শাসনের পর এখন বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছি আমরা। জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে—এই আশাবাদ থেকেই আমরা এগোচ্ছি। তবে বাস্তবায়ন সহজ নয়।"

দুর্নীতির অভিযোগ ও বিচারের প্রক্রিয়া

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর উঠে আসে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। একটি শ্বেতপত্রে দাবি করা হয়, তার শাসনামলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ ও গণহত্যার একাধিক মামলা চলমান, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দেশের সকল রাজনৈতিক দলই এই অনিয়ম প্রতিরোধে গভীরতর গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি তুলেছে। তবে ক্ষমতা পরিবর্তনের ৯ মাস পরেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো অধরা।

সংস্কার কমিশন ও ঐকমত্য গঠনের উদ্যোগ

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা ও সংবিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য একাধিক কমিশন গঠন করে। এতে নাগরিক সমাজ ও শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এসব কমিশনের সুপারিশ বিশ্লেষণের জন্য গঠন করা হয়েছে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’, যা এখন পর্যন্ত ১৬৬টি সুপারিশ ও ৩৫টি রাজনৈতিক দলের মতামত সংগ্রহ করেছে।

এই কমিশনের লক্ষ্য, জুলাইয়ের মধ্যে একটি ‘চার্টার অব কনসেনসাস’ (ঐকমত্যের খসড়া দলিল) প্রণয়ন, যা আগামীর নির্বাচন ও ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর রূপরেখা নির্ধারণ করবে।

তবে ঐকমত্য গড়ে তোলা সহজ হচ্ছে না। অনেকে বলছেন, টেক্সটাইল ও শিক্ষা খাতের জন্য কমিশন না থাকাটা একটি ভুল সিদ্ধান্ত। সবচেয়ে বিতর্কিত হয়েছে নারী অধিকার সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ, যা ইসলামি উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছে। এর ফলে কট্টর ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা আনতে কিছুটা সফল হলেও, সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনও দুর্বল। পাশাপাশি, দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। রাজপথে প্রতিবাদ এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষণা ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা

এদিকে, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এরপরই দলটির নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে দলটি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে আওয়ামী লীগের সামাজিক ভিত্তি এখনও বহাল। অনেক বিশ্লেষকের মতে, শুধুমাত্র নিষিদ্ধ করেই কোনো দল বা মতাদর্শ নির্মূল করা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকার যদি গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে আওয়ামী লীগ আবার সংগঠিত হতে পারে।

সংঘাতের শঙ্কা ও ভবিষ্যতের পথ

অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দেশে অস্থিরতা তৈরিতে সক্রিয়। ফলে সংস্কার বাস্তবায়নের ম্যান্ডেট সামনে রেখে সরকারের জন্য আগামী দিনগুলো চ্যালেঞ্জে ভরা।

নতুন রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশের এই যাত্রা জটিল হলেও, তা নির্ধারণ করে দেবে দেশের আগামী প্রজন্মের জন্য কোন বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.