ফাইভারে গিগ তৈরি
ফাইভারে গিগ তৈরি: ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রথম ধাপ
ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে এক জনপ্রিয় পেশা। ঘরে বসে বিশ্বের বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি–ভিত্তিক কাজ করে আয় করছেন হাজারো ফ্রিল্যান্সার। তবে এই পথচলা শুরু করতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন—কোথা থেকে শুরু করব? কী জানতে হবে? সঠিক দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় অনেকেই আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে যান। তাই ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহী পাঠকদের জন্য শুরু হলো ধারাবাহিক গাইডলাইন—‘ফ্রিল্যান্সিং যেভাবে’।
আজকের
বিষয়:
ফাইভারে গিগ কীভাবে তৈরি করবেন।
প্রথম ধাপ: ওভারভিউ বিভাগ
গিগ
তৈরির
শুরুতে
আপনাকে
একটি
আকর্ষণীয় শিরোনাম দিতে
হবে।
ফাইভারে প্রতিটি গিগ
শুরু
হয়
“I will” দিয়ে।
যেমন,
আপনি
যদি
লোগো
ডিজাইন
করেন,
তাহলে
গিগ
হতে
পারে:
“I will design a professional logo for your business.” এরপর গিগের বিভাগ
ও
উপবিভাগ নির্বাচন করুন।
এরপর
‘Service Type’ ও
‘Gig Metadata’ অংশে
আপনার
সেবার
ধরন
অনুযায়ী উপযুক্ত অপশন
বাছাই
করুন।
পরবর্তী ধাপে
আপনাকে
গিগের
সঙ্গে
সম্পর্কিত ৬টি ট্যাগ যুক্ত
করতে
হবে।
এই
ট্যাগগুলো গিগ
সার্চে
দৃশ্যমান হতে
সাহায্য করে।
আপনি
চাইলে
অন্যদের গিগ
দেখে
ধারণা
নিতে
পারেন,
তবে
সরাসরি
কপি
করলে
অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়তে
পারে।
সব
কিছু
ঠিকঠাক
হলে
Save & Continue বাটনে ক্লিক
করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: প্রাইসিং বিভাগ
এখানে
আপনি
এক
বা
একাধিক
সার্ভিস প্যাকেজ তৈরি
করতে
পারেন।
সাধারণত তিনটি
প্যাকেজ (Basic, Standard, Premium) তৈরি করলে
ক্রেতাদের জন্য
সুবিধাজনক হয়।
প্রতিটি প্যাকেজে:
- নাম দিন
- সেবার বিবরণ লিখুন
- কাজ শেষ করতে কত সময় লাগবে তা উল্লেখ করুন
- প্যাকেজভিত্তিক
মূল্য নির্ধারণ করুন
প্রয়োজনে অতিরিক্ত সেবা
যুক্ত
করতে
পারবেন
‘Extra Service’ অংশে।
সবশেষে
Save & Continue বাটনে ক্লিক
করুন।
তৃতীয় ধাপ: ডেসক্রিপশন বিভাগ
এখানে
গিগ
সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন।
আপনার
সেবা
কী,
কেন
ক্লায়েন্ট এটি
কিনবে,
এবং
বিক্রয়োত্তর সেবার
সুযোগ
কী
থাকবে—এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ
করুন।
এছাড়া
ক্লায়েন্টদের সাধারণ
প্রশ্ন
ও
তার
উত্তর
লিখে
দিতে
পারেন।
সর্বোচ্চ ১০টি
প্রশ্নোত্তর যুক্ত
করা
যাবে,
যা
আগাম
অনেক
বিভ্রান্তি দূর
করতে
সহায়তা
করবে।
চতুর্থ ধাপ: রিকোয়ারমেন্ট বিভাগ
এই
বিভাগে
জানাতে
হবে—ক্লায়েন্ট যদি আপনার গিগ
কেনে,
তবে
কাজ
করতে
হলে
আপনি
তার
কাছ
থেকে
কী
কী
তথ্য
চাইবেন। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েব
ডিজাইনের গিগে
ডোমেইন,
হোস্টিং ও
কনটেন্ট সংক্রান্ত তথ্য
প্রয়োজন হতে
পারে।
এসব
তথ্য
না
দিলে
গিগ
অর্ডার
সম্পন্ন হবে
না—তাই আগে থেকেই
এই
তথ্য
উল্লেখ
করে
রাখা
জরুরি।
পঞ্চম ধাপ: ইমেজ গ্যালারি বিভাগ
গিগের
সঙ্গে
একটি
ভিডিও
এবং
তিনটি
ছবি
যোগ
করতে
পারবেন। এই
ছবিগুলো যেন
আপনার
সেবার
মান
ও
বিষয়বস্তু তুলে
ধরে,
সে
বিষয়ে
খেয়াল
রাখতে
হবে।
ছবিতে:
- টেক্সট ও আইকনের মাধ্যমে তথ্য দিন
- ভালো মানের ও স্পষ্ট গ্রাফিক্স ব্যবহার করুন
এছাড়া
চাইলে
দুটি
PDF ডকুমেন্ট যুক্ত
করে
পোর্টফোলিও বা
অতীত
কাজের
নমুনা
উপস্থাপন করতে
পারেন।
এতে
আপনার
পেশাদারিত্ব আরও
দৃশ্যমান হবে।
সবশেষে,
যখন
আপনি
সব
ধাপ
পূরণ
করবেন,
তখন
গিগটি
পাবলিশ হয়ে
যাবে
এবং
ফাইভার
আপনাকে
একটি
গিগ
লিংক
দেবে।
আপনি
চাইলে
পরে
প্রোফাইল থেকে
গিগ
সম্পাদনা করতে
পারবেন
এবং
কতজন
গিগে
ক্লিক
করেছে,
তাও
দেখতে
পারবেন।
ফাইভার
অ্যাকাউন্ট তৈরি
শেষে
ট্যাক্স ফর্ম ফিলআপ
করার
অনুরোধ
আসতে
পারে।
এতে
ভয়
পাবেন
না।
আপনি
যদি
যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা না
হন,
তাহলে
‘I am not a U.S. person’ অপশন
নির্বাচন করে
Save করলেই
হবে।
অতিরিক্ত কিছু
দিতে
হবে
না।
এই
ছিল
ফাইভারে গিগ
তৈরির
সহজ
গাইড।
পরবর্তী পর্বে
থাকছে—ফাইভার
প্রোফাইলকে আরও আকর্ষণীয় করার কৌশল।

No comments
ধন্যবাদ।