Header Ads

Header ADS

ঈদের সিনেমা দিয়ে অভিষেক, দুই তরুণের

ফারজানা বুশরা,শাশ্বত দত্ত

সিনেমার শুরুটা হয় লিমা চরিত্র দিয়ে—ফারজানা বুশরার রূপায়ণে এক গ্ল্যামারাস, প্রাণবন্ত তরুণী। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করছেন তিনি, কিন্তু খুব শিগগিরই ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে—লিমা অভিযুক্ত হন একটি খুনের ঘটনায়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভেঙে পড়া এক ভিন্ন লিমাকে দেখা যায়, যার শরীরী ভাষা, চোখের ভাষা, কথা বলার ঢঙ—সবই পাল্টে যায়। এই বৈপরীত্যে বুশরা যেভাবে নিজেকে তুলে ধরেছেন, তা প্রশংসনীয়। আলাপ শুরু হলো এই চরিত্র নিয়েই—প্রথম সিনেমাতেই এমন গভীর, জটিল ও ধূসর চরিত্রে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন?

বুশরার জবাব, “এই দ্বৈততা, ভেতরের গভীরতা—এই জিনিসটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। সাধারণ একটা চরিত্র দিয়ে শুরু না করে বরং চ্যালেঞ্জিং কিছু দিয়ে নিজের পথচলা শুরু করতে চেয়েছি। তাই এক মুহূর্ত না ভেবে লিমার চরিত্রে রাজি হয়ে যাই।”

নিয়মিত মডেলিং আর কিছু ওয়েব সিরিজে কাজ করলেও বড় পর্দায় কাজ করার অভিজ্ঞতাটা একেবারে ভিন্ন বলেই মনে হয়েছে বুশরার। ‘চক্কর ৩০২’-এর লিমা হয়ে উঠতে তাঁকে দিতে হয়েছে অনেক প্রস্তুতি। চরিত্রের মনস্তত্ত্ব বুঝতে পরিচালক থেকে শুরু করে নিজের পর্যবেক্ষণ—সবকিছু মিলিয়ে অনুশীলন করেছেন তিনি। এমনকি নিজের প্রিয় ব্যান্ড রেডিওহেডের গানও নাকি লিমার মানসিক জগতে ঢুকে পড়তে সাহায্য করেছে।

লিমার পর্দায় উপস্থিতি খুব দীর্ঘ নয়, তবে যতটুকু সময় ছিলেন, দর্শকের মনে দাগ রেখে গেছেন বুশরা। মুক্তির পর সহকর্মী ও বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসায় তিনি রীতিমতো বিস্মিত। “ভাবতেই পারিনি এত অল্প সময়ে দর্শকদের এমন সাড়া পাব। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকেরা যখন এসে আলাদা করে আমার অভিনয়ের কথা বলেছিলেন, সেটা ছিল এক অকল্পনীয় আনন্দ।”

এই সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল মোশাররফ করিমের সঙ্গে জেরা দৃশ্য। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে বুশরার অনুভব, “ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে পর্যন্ত আমি ভয় পাচ্ছিলাম। মোশাররফ ভাইয়ের মতো অভিনেতার সামনে নিজেকে ঠিকঠাক তুলে ধরতে পারব তো? কিন্তু উনি পুরো সেটে এমনভাবে পরিবেশ তৈরি করেছিলেন যে আমি একসময় ভুলেই গিয়েছিলাম আমি অভিনয় করছি। মনে হচ্ছিল, সত্যিই কোনো তদন্তে জেরা চলছে।”

মার্ডার মিস্ট্রি ঘরানার সিনেমা বরাবরই বুশরার পছন্দের। ‘গন গার্ল’, ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’, ‘ওল্ডবয়’, ‘মাইন্ডহান্টার’ তাঁর দেখা প্রিয় সিনেমা ও সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপাতত কিছু নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও কোনটি কখন প্রচার হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি।

মোশাররফ-ভক্ত শাশ্বত

‘চক্কর ৩০২’-এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মঈনুলের সহকারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাশ্বত দত্ত। প্রথম সিনেমায় এমন চরিত্রে অভিনয় বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও, তিনি তা সফলভাবে পার করেছেন। ওয়েব ফিল্ম ‘পুনর্মিলনে’র রোমান্টিক চরিত্রের পর এবার তাঁর রূপান্তর এক গোয়েন্দা সহকারীতে—যেখানে মেজাজ, ভাবভঙ্গি, সংলাপ সবকিছুই একদম আলাদা। তবু শাশ্বত সাবলীল।

নিজের অভিনয় নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন শাশ্বত। তবে তিনি বললেন, “সব কৃতিত্ব নির্মাতা শরাফ ভাই এবং মোশাররফ ভাইয়ের। উনি নিজেই বারবার রিহার্সাল করিয়েছেন, আমাকে সাহস দিয়েছেন। উনি এমন একজন শিল্পী, যিনি সহঅভিনেতার কথা ভাবেন, একেবারে আত্মকেন্দ্রিক নন।”

শুটিংয়ের সময়কার একটি ঘটনা শেয়ার করলেন শাশ্বত, “পঞ্চম দিনের শুটে মোশাররফ ভাই হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘শাশ্বত, আমার অভিনয়টা কেমন হচ্ছে?’ আমি তো অবাক! উনার অভিনয় দেখে তো আমি তো শুধু হাঁ হয়ে তাকিয়ে থাকি। উনি আসলে খুব বিনয়ী একজন মানুষ।”

দর্শকের সরাসরি প্রশংসা শাশ্বতকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে। সিনেমা হলে গিয়ে মানুষের উচ্ছ্বাস তাঁর কাছে মনে হয়েছে মঞ্চ নাটকের মতো। শাশ্বতের প্রিয় সিনেমার তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ ভারতের ‘অফিসার অন ডিউটি’, ‘রাতসাসান’ এবং বং জুন-হোর কালজয়ী ‘মেমোরিজ অব মার্ডার’।

‘চক্কর ৩০২’-এর আগে ২০১৬ সালে রতন পালের পরিচালনায় ‘ইসমাইলের মা’ সিনেমায় অভিনয় করলেও, সেটি এখনও মুক্তি পায়নি বলে জানালেন শাশ্বত। ঈদ উপলক্ষে তিনি বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন, তবে সেগুলোর প্রচারের সময় নিয়েও নিশ্চিত নন।

‘চক্কর ৩০২’ সিনেমাটি শুধু নতুনদের আত্মপ্রকাশ নয়, বরং প্রতিশ্রুতিশীল অভিনয়ের একটি নমুনাও। বুশরা ও শাশ্বতের মতো নতুনদের পরিণত পারফরম্যান্স বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন আশার সঞ্চার করে। 

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.