৬ মাসের সেমিস্টার শেষ হতে সময় লাগছে ১২ মাস, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
রাবি আইইআর-এ সেমিস্টার শেষ হতে সময় লাগছে দ্বিগুণ, ক্ষুব্ধ নিয়মিত শিক্ষার্থীরা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)-এ নিয়মিত শিক্ষার্থীরা চরম সেশনজটে ভুগছেন। যেখানে একটি সেমিস্টার শেষ হতে সময় লাগছে ১২ মাস, সেখানে সান্ধ্যকালীন কোর্সের ক্লাস ও পরীক্ষা চলছে নির্ধারিত সময়েই। এই বৈষম্যে ক্ষোভে ফুঁসছেন নিয়মিত কোর্সের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ৪ বছরের অনার্স শেষ করতে সময় লাগছে প্রায় ৬ বছর। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশেও রয়েছে ব্যাপক ধীরগতি। অনেকে বলছেন, সেমিস্টার পরীক্ষার ৬-৭ মাস পরেও ফলাফল হাতে পাচ্ছেন না। এমনকি আগের সেমিস্টারের ফলাফল না পেয়েই নতুন সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো মাস্টার্স শেষ করতে পারেননি, যখন অনেক বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও মাস্টার্স পর্যায়ে পড়ছেন। আইইআর-এর শিক্ষার্থীরা এখনো অনার্সের চতুর্থ বর্ষে।
শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে সমস্যার কথা বললেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। বরং কেউ প্রতিবাদ করলেই হুমকির মুখে পড়তে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “একটি ছয় মাসের সেমিস্টার শেষ করতে আমাদের সময় লাগছে এক বছর। দাবি জানালেই হুমকি দেওয়া হয়।”
আরেকজন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগ শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়েই সেমিস্টার শেষ করছে। অথচ আমাদের শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার অভাবে আমরা পেছনে পড়ে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে আইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আকতার বানু বলেন, করোনার প্রভাব, শিক্ষক স্বল্পতা ও একাধিক প্রোগ্রাম একসঙ্গে চালানোই সেশনজটের মূল কারণ। তিনি বলেন, “আমি একাই ৭-৮টি কোর্স পড়াই। সব মিলিয়ে চাপ বেড়েছে।”
তিনি আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ পাওয়া পাঁচ শিক্ষকই চলে গেছেন। ফলে নিয়োগে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত আইইআর ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত অনার্স কোর্স চালু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে নয়টি অনার্স ব্যাচ রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সেশনজট এবং একাডেমিক ধীরগতির কারণে এই প্রতিষ্ঠানটি এখন রাবির অন্যতম পিছিয়ে থাকা একাডেমিক ইউনিটে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা স্বস্তিতে একাডেমিক জীবন শেষ করতে পারেন।

No comments
ধন্যবাদ।