পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের চিন্তা ২০২৭ সাল থেকে
চলতি বছর শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর প্রায় তিন মাস পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে সব পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে পেরেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এই অতিরিক্ত দেরির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং এনসিটিবিকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
এই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে আগামী বছরের জন্য আগেভাগেই পাঠ্যবই ছাপার কাজ শুরু করছে সংস্থাটি। আগামী সপ্তাহে প্রাক-প্রাথমিক ও ষষ্ঠ শ্রেণির বই ছাপার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। জুনের মধ্যে সব শ্রেণির দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে, প্রাথমিক স্তরের বই অক্টোবরের মধ্যে এবং মাধ্যমিক স্তরের বই নভেম্বরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে এনসিটিবির নিয়মিত চেয়ারম্যান নেই; সংস্থার সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই কাজ শুরু হয়েছে, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অ্যানুয়াল প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান (এপিপি) অনুমোদন দিয়েছে। মাঠপর্যায়ে পাঠ্যবইয়ের চাহিদা সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের চাহিদা প্রাথমিকভাবে ২৩ কোটির বেশি থাকলেও যাচাই-বাছাইয়ের পর তা নেমে এসেছে ২২ কোটির কাছাকাছি। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে আগের বছরের হিসাব অনুযায়ী তা প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ছিল।
এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতীতে অনেক বিদ্যালয় অতিরিক্ত বইয়ের চাহিদা দিত, যার ফলে বইয়ের সংখ্যা এবং ব্যয় উভয়ই বেড়ে যেত। এবার এনসিটিবির কর্মকর্তারাই সরেজমিন পরিদর্শন করে চাহিদা যাচাই করছেন, ফলে বইয়ের সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের প্রস্তুতি
গত বছর পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ বছর চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর কথা থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে মাধ্যমিক স্তরের নতুন পাঠ্যক্রম স্থগিত করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম পুনর্বহাল করা হয়। তবে প্রাথমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম বহাল রাখা হয়েছে, এবং আগামী বছরের পাঠ্যবই সেই আলোকে ছাপা হবে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, তারা ২০২৭ সাল থেকে সম্পূর্ণ পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে এটি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে অন্যান্য শ্রেণিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে এখন থেকেই প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

No comments
ধন্যবাদ।