অবান্তর কথা পরিহার কাম্য
ভালো কথা বললে মানুষের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি হয়। আবার মন্দ কথা বললে মানুষকে লাঞ্ছিত হতে হয়। এমন কিছু কথা আছে যা বলা অন্যায় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কাজেই এমন আচরণ ও কথাবার্তা বলা থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত। যাতে কারও জন্য কোনো কল্যাণ নেই। বরং কাউকে হেয় করা, কারও সম্মান নষ্ট করা ছাড়া তাতে আর কোনো উদ্দেশ্য থাকে না।
আবার আমরা প্রায়শই সাধারণ মানুষকে এমন কিছু প্রশ্ন করে ফেলি যাতে তারা বিব্রতবোধ করেন। কখনো তা আবার লজ্জার কারণও হতে পারে। যেমন একজন খেটে খাওয়া মানুষকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনার মাসিক আয় কত? অথচ এটা জানা আছে যে, তার আয় সামান্য, সীমিত। কিংবা জ্ঞাত বিষয়ে কোনো লোককে জিজ্ঞেস করা, আপনার সন্তান কয়জন? একইভাবে কাউকে হেয় করে জনসম্মুখে সম্বোধন করা। সম্মানিত ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষের সামনে ছোট করে উপস্থাপন করা। এ জাতীয় কাজ কখনো কারও জন্য করা উচিত নয়। এগুলো অনর্থক কাজ। যা মানুষকে ছোট করে তার হক নষ্ট করার নামান্তর। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তিনটি কাজে তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন। এক. অপ্রয়োজনীয় কথা বললে। দুই. কারও সম্পদ নষ্ট করলে। তিন. অনর্থক বেশি প্রশ্ন করলে। (সহিহ ইবনে হিব্বান) তাই এ জাতীয় কাজ ও আচরণ থেকে বিরত থাকা আমাদের কর্তব্য।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর তোমাদের প্রত্যেকেই লক্ষ করে দেখুক যে, আগামীকালের (মৃত্যুর পরের) জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর আল্লাহকে ভয় করো, তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত। (সুরা হাশর/১৮) এ আয়াত থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে, আমরা আল্লাহকে ভয় করব। পরকালে মুক্তির জন্য নেক আমল করব। যা আমাদের জন্য পরকালে মুক্তির পথকে সহজ করবে। এ ছাড়া অনর্থক আচরণ ও যাবতীয় কাজকর্ম থেকে বিরত থাকব, যাতে দুনিয়া ও আখেরাতে কোনো কল্যাণ নেই।
আল্লাহতায়ালা আমাদের যাবতীয় অনর্থক আচরণ, কথা ও কাজ পরিহার করে চলার এবং যেসব বিষয়ে আমাদের জন্য কোনো কল্যাণ নেই সেসব অনর্থক কার্যাবলি থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন।
No comments
ধন্যবাদ।