"সৈনিকের মুখে 'ভালো আছি'
প্রতিদিনের শত ব্যস্ততার মাঝেও মায়ের সাথে কথা বলা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যত ক্লান্তই থাকি, তার সাথে কথা বললেই মনে হয় দিনটা শেষ হলো। এটা শুধু আমার না, প্রায় সব সেনাসদস্যই করে থাকে। তানজিমও হয়তো গতকাল তার মায়ের সাথে কথা বলেই ফোন রেখেছিল। মায়েরা সবসময় এক অজানা চিন্তায় ডুবে থাকেন। যতই বলি, “মা, চিন্তা করো না, সব ঠিক আছে,” তবুও তার অস্থিরতা কমে না। মাকে একটু শান্তি দেওয়ার জন্যই প্রতিদিন কথা বলি। কিন্তু হয়তো মা জানেন না, কত রাত আমি শুধু “ভালো আছি” বলে ঘুমানোর অভিনয় করেছি, কিন্তু আসলে নিজের চোখে ঘুম আসে না, যেন তিনি কোন দুশ্চিন্তায় না থাকেন।
-কখনো ট্রেনিং বা অপারেশনের কঠিন কথাগুলো মাকে বলি না। বললেই হয়তো তিনি অস্থির হয়ে থাকতেন। তানজিমও হয়তো তার মায়ের চিন্তাগুলো বুঝতে পারতো। সে হয়তো ভাবতেও পারেনি, গতকাল মায়ের সাথে হওয়া কথাগুলোই হবে তার শেষ বিদায়। তার মা কখনো কল্পনাও করেননি যে, আর কোনোদিন শুনবে না সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর: “কেমন আছো মা?”
-তানজিম দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে গেলো। যে দেশের মানুষের জন্য সে দিনের পর দিন কষ্ট করেছে, সেই দেশের কিছু মানুষই তার জীবন কেড়ে নিলো! এভাবেই বহু সেনাসদস্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, বিনিময়ে কেবল দেশমাতৃকার প্রতি তাদের ভালোবাসা রেখে গেছেন। অপারেশনের আগে এক মুহূর্তের জন্যও মনে আসে না, “ওখানে যাওয়া কি সঠিক হবে?” হয়তো রাত ২টায় অপারেশনে যাওয়ার নির্দেশ পেলো আর তারপর আর কখনো ফিরলো না!
-"যদি আমি যুদ্ধে মারা যাই,
আমাকে বাক্সে ভরে বাড়ি পাঠিয়ে দিও।
আমার মেডেলগুলো বুকে সাজিয়ে দিও,
মাকে বলো, আমি আমার সর্বোচ্চটা করেছি।
ভাইকে বলো, মন দিয়ে পড়াশোনা করতে,
আমার বাইকের চাবি তার জন্যই চিরকালের জন্য।
আমার প্রিয়জনকে বলো, কেঁদো না...
কারণ আমি একজন সৈনিক, জন্মই আমার মৃত্যুর জন্য।"
-এমন অনেক গল্প ছড়িয়ে আছে, যা কেউ জানে না। অনেক না ফেরার পথে হেঁটে গেছে তারা। কে জানে, পরের গল্পটা হয়তো আমারই হবে!
-কোনোভাবেই মনটাকে স্বাভাবিক করতে পারছি না। তানজিমের কথা এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারছি না। তার কথা মনে হলেই, চোখের কোণে নিজের অজান্তেই অশ্রু চলে আসছে।
-আল্লাহ, তানজিমকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান দান করুন, এবং তার আত্মত্যাগ আমাদের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকুক।
No comments
ধন্যবাদ।