রহস্যময় রংধনু
যখন ছোট্টটি ছিলাম, আকাশে রংধনু দেখলে খুব অবাক হয়ে যেতাম। মনে মনে ভাবতাম, এত্ত ওপরে উঠে আকাশটাকে অমন সুন্দর করে সাজিয়ে দিল কে? সঙ্গে সঙ্গে মাথায় আসত-কে আবার, নিশ্চয় রমেন কাকা। তিনিই তো মই দিয়ে দেয়ালে উঠে আমাদের বাসায় রং করে দিয়েছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ এই কাজটি করবেন বলে তো মনে হয় না! রমেন কাকাই ইয়া বড় এক মই দিয়ে আকাশের এত্ত ওপরে ওঠে-তারপর বালতি বালতি রং দিয়ে আকাশকে সাজিয়েছেন। ইশরে, এই কাজটি করতে কাকার না জানি কতটা কষ্ট হয়েছে! এসব ভাবতাম আর হাঁ করে তাকিয়ে থাকতাম সাতরঙা রংধনুর দিকে।
জানি, আমার মতো তোমাদের মনেও রংধনুকে ঘিরে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। তোমরাও বুঝি রংধনুর দিকে তাকিয়ে ভাবো-কে আকাশের গায়ে এমন বাহারি রং ছড়িয়ে দিল? নীল রঙের আকাশটা কোথায় পেল এমন সাতরঙা ধনুক? ভাবতে ভাবতে নিশ্চয় সবকিছু গুলিয়ে ফেলো, কিন্তু উত্তর মেলাতে পারো না। চলো, আজকে আমরা রংধনুর রহস্য উদ্ঘাটন করব। খুঁজে বের করব কে আকাশে রং করেন। রমেন কাকা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য?
রংধনু ঠিক ধনুকের মতো দেখতে আলোর রেখা-যা বায়ুমণ্ডলে থাকা জলকণায় সূর্যমামার আলোর প্রতিফলন এবং প্রতিসরণের ফলে সৃষ্টি হয়। দেখতে ধনুকের মতো বাঁকা বলে তাকে বলা হয় রংধনু। সাধারণত বৃষ্টির পর আকাশে সূর্যের বিপরীত দিকে রংধনু দেখা যায়। রংধনুতে থাকে সাত সাতটি রঙের বাহার-বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। রংগুলোকে ছোট্ট করে ‘বেনীআসহকলা’ বলা হয়। এসব বাহারি রং মেখেই রংধনু নিজেকে এত সুন্দর করে সাজিয়ে তোলে; জয় করে নেয় আমাদের মন। তাই তো আমরা তার রূপে মুগ্ধ হয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকি।
শোনো, চুপি চুপি তোমাদের একটা গোপন কথা বলি। এ কথাটি রংধনুকে আবার বলে দিয়ো না যেন! তা হলে সে সাজুগুজু বন্ধ করে কান্নাকাটি জুড়ে দেবে। এবার বলি শোনো, আসলে রংধনু যে রং মেখে এত্ত রঙিন হয়ে আকাশে ভেসে থাকে, এগুলো কিন্তু তার নিজের রং নয়! কী, শুনে বুঝি খুব চিন্তায় পড়ে গেলে? নিশ্চয় এখন গালে হাত রেখে ভাবতে বসে গেছ-তা হলে রংধনু এমন সুন্দর রং কোথায় পেল? কে-ইবা এমন রং দিল তাকে? ভেবে কিছু পেলে? পেলে না তো?
আচ্ছা, আর ভাবতে হবে না। আমিই বলে দিচ্ছি, শোনো-এই রংগুলো সূর্যমামার। সূর্যমামা হচ্ছে রংধনুর মেকআপম্যান। চলো জেনে নিই, সূর্যমামা কীভাবে রংধনুকে মেকআপ করে দেয়।
খালি চোখে সূর্যের আলো দেখতে হলুদ মনে হলেও এগুলো মূলত ‘বেনীআসহকলা’-এই সাতটি রঙের মিশ্রণ। মেঘ করে বৃষ্টির পর আকাশ পরিষ্কার মনে হয়। কিন্তু তখনো কিছু কিছু পানির কণা বাতাসে ভেসে বেড়াতে থাকে, যা আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। সূর্যের আলো এ পানির কণার ভেতর দিয়ে পৃথিবীতে আসে; আর পানির কণার ভেতর দিয়ে পৃথিবীতে আসার সময় সূর্যের হলুদ আলো বেঁকে গিয়ে সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায়। এ রংগুলোই হলো-বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। এ সাতটি রংকে আমরা রংধনুর রূপে আকাশে দেখে থাকি। রংধনু আসলে আকাশে ভেসে বেড়ানো জলকণা আর সূর্যের আলোকরেখার মাধ্যমে তৈরি একটি রঙিন দৃশ্য।
রংধনুর একদম ওপরের দিকে থাকে লাল রং এবং একদম নিচের দিকে থাকে বেগুনি রং। তবে রংধনুতে সবসময়ই যে সাতটি রং দেখা যাবে, তা কিন্তু নয়; কখনো কখনো সাতটির কম রং নিয়েও রংধনু আকাশে ভেসে উঠতে পারে।
এবার কানে কানে তোমাদের একটি বুদ্ধি শিখিয়ে দিই। সবসময়ই বৃষ্টির পরে সূর্যের বিপরীত দিকে রংধনু ওঠে। রংধনু উঠলেই বোঝা যায়-আর বৃষ্টি হবে না। এখন এই বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে তুমিও আবহাওয়াবিদদের মতো বলে দিতে পারবে-বৃষ্টি হবে কি হবে না!
No comments
ধন্যবাদ।