রাজধানীব্যাপী তীব্র প্রকোপ ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু
রাজধানীব্যাপী তীব্র প্রকোপ ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু। এডিস মশাবাহিত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত বছরের চেয়ে এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার প্রায় তিনগুণ এবং আক্রান্তের হারও দ্বিগুণ। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে সংশ্লিষ্টরা আমলেই নিচ্ছেন না।
এ বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে গত শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৫৮১ জন। এর মধ্যে চলতি মাসের ১৮ দিনে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৩৭২ জন।
নগরবাসীর অভিযোগ, পাড়া-মহল্লার প্রতিটি বাড়িতেই মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে ব্যবহার করা হয় কয়েল, মশা মারার ব্যাট ও অ্যারোসলসহ নানা পদ্ধতি। তবে মশার উপদ্রব বাড়লেও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দেখা যায় না। তারা নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ছাড়া সব জায়গায় যান না। তাই তীব্র তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন ঢাকার বাসিন্দারা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরিপ তথ্যও বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সব এলাকাতেই ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে। তবে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখছে না দুই সিটি করপোরেশন।
এ প্রসঙ্গে কীটতত্ত্ববিদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমরা দুই যুগেও মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। কারণ হচ্ছে আমাদের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, লোকবলের ঘাটতি ও জনসচেতনতার অভাবে উল্টো শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়েছে।
অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়, যাতে করে ভবিষ্যতের দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারে। বিগত দুই যুগেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী। এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পথনির্দেশনা মেনে সারা বছর ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কলকাতা কী করে সফল হলো তা আমাদের জানা দরকার এবং তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগানোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন। ডেঙ্গু যেহেতু মশাবাহিত রোগ সেহেতু মশার কামড় থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে। মশা নিধনে মানসম্মত ওষুধ ছিটাতে হবে।
এডিস মশা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে সেহেতু এখনই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। ডেঙ্গু সংক্রমণের ক্ষেত্রে বৃদ্ধ, শিশু ও অসুস্থরা থাকেন উচ্চ ঝুঁকিতে। এ সময় তাদের বিশেষ যতœ নিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে শরীরে প্রচুর পানিশূন্যতা দেখা যায়। কাজেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে বেশি বেশি পানীয় দ্রব্যাদি খাওয়াতে হবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে সুস্থতা লাভ করা যায়। মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের কালে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
No comments
ধন্যবাদ।