“মা, আজ আমার জন্মদিন… আমি কি এক রুটি বেশি পেতে পারি?”
“মা, আজ আমার জন্মদিন… আমি কি এক রুটি বেশি পেতে পারি?”
আজ কারিমের জন্মদিন।
সে আমার চোখের মণি, প্রাণের স্পন্দন।
জন্মদিনে যেখানে শিশুরা কেক, খেলনা কিংবা সাজসজ্জার বায়না ধরে, সেখানে আমার কারিমের একমাত্র চাওয়া— একটা বাড়তি রুটি।
সে বলল—
“মা, আজ আমার জন্মদিন… আমি কি আজ এক রুটি বেশি পেতে পারি?”
ওর এই কথা শুনে চোখ ভিজে উঠল। কিন্তু তার সামনে কাঁদিনি। ও যেন না বুঝতে পারে, ভিতরে ভিতরে আমরা কতটা ভেঙে পড়েছি।
আজ সে সাত বছরে পা দিল।
যুদ্ধের মধ্যে ইতিমধ্যেই দুইটি জন্মদিন কেটে গেছে, আর আমি কখনোই তার ছোট্ট ইচ্ছেগুলোও পূরণ করতে পারিনি। প্রতিদিন সে আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। হাড়জিরজিরে শরীরটা দেখে বুকটা ফেটে যায় আমার। তবুও ভাগের অতিরিক্ত রুটি আমি দিতে পারি না— কারণ আমি চাই, সে যেন অন্তত কিছুদিন আরও বেঁচে থাকে।
অপুষ্ট শরীর নিয়ে কারিম বরং আমাকেই সান্ত্বনা দেয়—
“মা, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে। আমরা আবার হাসব, খেলব, পেট ভরে খাব।”
প্রতিদিন নামাজ পড়ে সে আল্লাহর কাছে দোয়া করে—
“আমাদের সুস্থ রাখো, হালাল রিজিক দাও।”
♦️ কারিমের মা আফনান আয়মানের এই কথাগুলো পড়তে পড়তে অজান্তেই চোখ ভিজে গেল। ভাবতে লাগলাম— আমি, যিনি নিজের সন্তানদের অসুস্থতায় সব চিকিৎসা, খাবার, ওষুধের ব্যবস্থা করতে পারি, তবুও কত অসহায় বোধ করি…
আমার দুই মেয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভীষণ অসুস্থ। ছোট মেয়েটার তো চোখই খুলে না, সারাদিন মাথা কাঁধে ফেলে পড়ে থাকে। খাবার তৈরি করি— এক চামচ খেলেই বমি, আবার খাওয়াই, আবার বমি। কখনো হাত-পা ছুড়ে ওষুধের বোতল ভেঙে ফেলে, ওর বাবা দৌড়ে গিয়ে নতুন এনে দেয়। দুইবার ডাক্তার দেখিয়েছি। চিকিৎসা, খাবার— সব আছে, তবুও মনে হয় আমার পুরো পৃথিবী থেমে গেছে।
আর গাজার মায়েরা?
যাদের হাতে নেই কোনো ওষুধ, নেই খাবার, নেই নিরাপত্তা— বেঁচে থাকার ন্যূনতম উপকরণও নেই! তারা এভাবে সয়ে যাচ্ছেন একদিন-দুইদিন নয়— আজ ৬৭০ দিন…
প্রভু, কারিমদের নেক হায়াত দাও।
তাদের সুস্থ-স্বস্তির জীবন দাও।
এই গণহত্যা থামিয়ে দাও, হে আল্লাহ…
— ৭ আগস্ট ২০২৫

No comments
ধন্যবাদ।