Header Ads

Header ADS

নিজের সন্তানকে মর্গে গিয়ে শনাক্ত

 

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

নাম: সাদ সালাহউদ্দিন

ক্লাস: ৩য় (বাংলা মাধ্যম)
কোড নং: ০২৬৭
সেকশন: ক্লাউড (মেঘ)
প্রতিষ্ঠান: মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

সাদ আমার খুব কাছের এক ভাইয়ের ছেলে। তাই এই শোক, এই যন্ত্রণা যেন খুব কাছ থেকেই দেখা হলো।

তার মা-বাবা সারাদিন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছেন—কোলের তিন বছরের মেয়েটিকে নিয়ে পাগলের মতো ঘুরেছেন। প্রথম থেকেই আশায় ছিলেন, হয়তো আহতদের মধ্যেই তাঁদের সাদ আছে। কিন্তু সারাদিন খুঁজেও যখন তাকে পাওয়া গেল না, তখন বিকেলে শেষবারের মতো তাকে খুঁজে পাওয়া গেল—মর্গে।

একজন বাবা নিজের সন্তানকে মর্গে গিয়ে শনাক্ত করছেন—এই কষ্ট কতটা গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

সাদ দুই দিন আগে অসুস্থ ছিল, তাই স্কুলে যায়নি। সেদিন রাতে তার বাবা ওষুধ নিয়ে আসেন। সকালে সাদ কিছুটা সুস্থবোধ করায় স্কুলে পাঠানো হয়। মা নিজ হাতে তাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে স্কুলে পাঠান, খাইয়ে দেন—কে জানতো সেটাই হবে মায়ের হাতে তার শেষ খাওয়া?

সাদ নাকি মায়ের ভীষণ ভক্ত ছিল। মা বাথরুমে গেলেও বারবার ডাকত। মা মাঝেমধ্যে বিরক্ত হতেন, কিন্তু আজ সেই ডাক আর কখনো শোনা যাবে না।

পরের রাতে ছোট বোনের সঙ্গে লুকোচুরি খেলেছে সে। আর আজ, সেই ভাই চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়ে গেছে।

ছোট্ট সাদ একা একা ঘুমাতে ভয় পেত, তাই মা সব সময় তাকে জড়িয়ে ঘুমাতেন। আজ সে একাই চলে গেলো—মাকে একা রেখে।

তার বাবা নিঃশব্দ হয়ে গেছেন। শুধু তাঁর চোখ-মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, বুকের গভীরে কী ভয়াবহ হাহাকার জমে আছে।
আর সাদ-এর মা? তিনি স্কুল থেকে ফিরে এলে সাদকে খাওয়াবেন বলে মুরগির মাংস রান্না করে রেখেছিলেন। কিন্তু সাদ ফিরল সাদা কাপড়ে মোড়ানো, নিথর দেহ হয়ে।

হে আল্লাহ, এই অবুঝ শিশুগুলোর জান্নাত নসিব করুন।
শোকাহত মা-বাবা ও পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণের শক্তি দিন।

সাদ ছিল যেন এক রাজপুত্র—অথচ এত তাড়াতাড়ি চলে গেল।
আমরা যারা শুধু পাশে থেকে দেখেছি, আমাদের বুকও ভারী হয়ে আসে।
আর যারা মা-বাবা হয়ে এই শোক বুকে ধারণ করছেন, তাঁদের অন্ধকার মনে কেমন ঝড় বইছে—তা শুধু আল্লাহই জানেন।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.