Header Ads

Header ADS

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীতকরণে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীতকরণের উদ্যোগ, সরকারে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ডিপিই

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) একটি প্রস্তাব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ৩৪১ কোটি ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিপিই’র প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললেই অফিসিয়াল আদেশ জারি করা হবে।

এর আগে, ৫ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, দেশের প্রায় ৩০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নম্বর ৩২১৪/২০১৮-এর রায় অনুযায়ী, রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ইতোমধ্যে ১১তম থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। অবশিষ্ট শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই গ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে ভাবছে।

এই উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতির পথ সুগম হবে। তবে আমরা চাই, রিটকারী ৪৫ জনের পাশাপাশি সকল প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও যথাক্রমে দশম ও একাদশ গ্রেড বাস্তবায়ন হোক।”

২০১৪ সালের ৯ মার্চ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও পরে ১১তম (প্রশিক্ষিত) ও ১২তম (অপ্রশিক্ষিত) গ্রেড নির্ধারণ করা হয়, যা বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে তৎকালীন শিক্ষক নেতাসহ ৪৫ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন।

২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায়ে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্তি ও দশম গ্রেডে উন্নীত করার নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলেও তা খারিজ হয় এবং পরে রিভিউ আবেদনও নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

এদিকে, ডিপিই এক অফিস আদেশে সতর্ক করেছে, প্রমোশন কার্যক্রমকে ঘিরে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। এটি ফৌজদারি অপরাধ—এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিপিই পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে, কারণ এটি বাস্তবায়নে বাড়তি তেমন কোনো জটিলতা নেই। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে, যাদের হাত থেকে সাধারণ শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।”

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.