ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল ফিলিস্তিনি ফুটবলারের
ইসরায়েলের চলমান বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি জাতীয় দলের ফুটবলার মুহান্নাদ আল-লিলি নিহত হয়েছেন। স্ত্রী ও সদ্যোজাত সন্তানকে দেখার আগেই প্রাণ হারালেন এই ফুটবলার।
ফিলিস্তিনি ফুটবলার মুহান্নাদ আল-লিলি নিহত
প্যালেস্টিনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানায়, মুহান্নাদের মৃত্যুতে ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণ হারানো ফুটবলারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৬৫ জনে, আর পুরো ক্রীড়াঙ্গনে নিহত হয়েছেন ৫৮৫ জন।
ফিলিস্তিনের ওয়াফা নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সেন্ট্রাল গাজার আল-মাঘাজি শরণার্থী ক্যাম্পে গত সোমবার রাতে ড্রোন হামলায় নিহত হন মুহান্নাদ। এক মিসাইল সরাসরি তাদের তিনতলা ভবনের বেডরুমে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন, মাথায় তীব্র রক্তক্ষরণ হয়। একদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তিনি মারা যান।
পরিবারের কাছে যেতে চেয়েছিলেন
মুহান্নাদের স্ত্রী ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর আগে নরওয়েতে চলে যান। সেখানেই তাদের সন্তান জন্ম নেয়। স্ত্রী ও সন্তানকে এক নজর দেখার জন্য নিরাপদ সময় খুঁজছিলেন মুহান্নাদ। কিন্তু ভাগ্য সেই সুযোগ দেয়নি।
‘মিডল ইস্ট আই’ জানিয়েছে, স্ত্রী-সন্তানের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছিলেন মুহান্নাদ, কিন্তু ইসরায়েলি হামলা তার সেই আকাঙ্ক্ষাকে থামিয়ে দেয়।
ক্লাব ক্যারিয়ার
মুহান্নাদ আল–লিলি ক্যারিয়ার শুরু করেন নিজ শহরের ক্লাব খাদামাত আল-মাঘাজি থেকে। ২০১৬–১৭ মৌসুমে ক্লাবটির সিনিয়র দলের হয়ে ফিলিস্তিন প্রিমিয়ার লিগে নেতৃত্ব দেন। এরপর তিনি যোগ দেন শাবাব জাবালিয়া ক্লাবে, যেখান থেকে তার দল ২০১৮–১৯ মৌসুমে লিগে রানার্সআপ হয়। এরপর গাজা স্পোর্টস ক্লাবে যোগ দিয়েও পরে ফিরে আসেন খাদামাত আল-মাঘাজিতে।
একজন ফুটবলারের মৃত্যু, মানবতার ট্র্যাজেডি
মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি। মুহান্নাদ আল-লিলির মৃত্যু কেবল একটি খেলাধুলার ক্ষতি নয়—এটি একটি জাতির বেদনার প্রতিচ্ছবি।
ফুটবল মাঠে যিনি একসময় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আজ তিনি নেই। তার শিশুপুত্র কখনোই দেখতে পাবে না তার বাবাকে।
এই মৃত্যু শুধু ফিলিস্তিন নয়, গোটা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং মানবতার সামনে এক বিবর্ণ বার্তা।

No comments
ধন্যবাদ।