২০২৪ সালের ১০ জুলাই (বুধবার) ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের'
‘বাংলা ব্লকেড’ এ স্থবির দেশ: কোটা সংস্কারের দাবিতে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই (বুধবার) ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ডাকে সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। রাজধানীসহ সারাদেশে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে তারা এই আন্দোলন চালায়, যার ফলে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
‘বাংলা ব্লকেড’ এর মূল দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা
আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে সর্বোচ্চ ৫% কোটা রেখে বৈষম্যহীন ও যৌক্তিক কোটা সংস্কার আইন পাস করতে হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঘোষণা দেন—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
তিনি জানান, ১১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সারাদেশে নতুন করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
রাজধানীতে অবরোধ: শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও কার্যক্রম
- সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল বের হয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা।
- এরপর শাহবাগ মোড়, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বাংলামোটর, মৎস্য ভবন, চানখাঁরপুল, বঙ্গবাজার, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।
- এতে অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ, বোরহান উদ্দিন কলেজসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
রেল ও যান চলাচলে বিপর্যয়
- কারওয়ান বাজার রেলপথ অবরোধ করায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
- শিক্ষার্থীদের অবরোধে বাস, প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও পল্টন মোড় অবরোধ করেন।
সারাদেশে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও অবরোধ:
- সায়েন্সল্যাব: ঢাকা কলেজ
- ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- মহাখালী (ঢাকা-ময়মনসিংহ): তিতুমীর কলেজ
- রাজশাহী: রাবি, রুয়েট, রাজশাহী কলেজ
- সিলেট: শাবিপ্রবি
- ঢাকা-চট্টগ্রাম: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- ময়মনসিংহ শহর: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
- রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম: চবি ও অধিভুক্ত কলেজ
- পাবনা: পাবিপ্রবি
- দিনাজপুর: হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- ত্রিশাল: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
- বরিশাল: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বি.এম কলেজ
আদালতের রায় ও সরকারের অবস্থান
এদিন বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে, হাইকোর্টের রায়ের ওপর এক মাসের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।- – পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য: ৭ আগস্ট ২০২৪
- – প্রধান বিচারপতি শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
- অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, “২০১৮ সালের পরিপত্র অনুযায়ী কোটা কার্যকর নেই। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে—এখন আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই।”
চলমান ধর্মঘট ও ছাত্রদের অবস্থান
- ১ জুলাই থেকে চলমান এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে ছাত্র ধর্মঘট পালন করছেন।
- ১০ জুলাই ছিল টানা চতুর্থ দিনের ধর্মঘট।
কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি সারাদেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শিক্ষার্থীরা সড়ক-রেল অবরোধ করে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করে। যদিও আদালতের স্থিতাবস্থা ও সরকারের আহ্বান রয়েছে, আন্দোলনকারীরা এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

No comments
ধন্যবাদ।