Header Ads

Header ADS

শহীদ মুত্তাকিন: সাহসী এক যোদ্ধা

 

শহীদ মুত্তাকিন: সাহসী এক যোদ্ধা

শহীদ মুত্তাকিন: সাহসী এক যোদ্ধার প্রতি এক স্ত্রীর হৃদয়ভাঙা নিবেদন

১৯ জুলাই সকাল ৮:৪০।
তুমি বেরিয়ে গেলে তড়িঘড়ি করে—শেষবারের মতো আমার মুখে হাত রেখে, নাফিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললে, “৯টার পর বাবুকে ঘুম থেকে তুলে খাবার খাওয়াবে।”
কি জানি, যদি সেদিন জেদ করতাম, তোমায় বাইরে যেতে দিতাম না!

সকালে ফোনে বললে, “আজকে দেরিতে ফিরবো।” আমি বলিনি কিছু, ভাবিনি এটাই হবে আমাদের শেষ কথা।
তুমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চেয়েছিলে—তিন ঘণ্টা রাস্তার পাশে বসে আন্দোলনের অপেক্ষায় ছিলে।

আসরের পর তোমার শেষ কল:
“আজকে রাস্তায় নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সবাই নেমেছে। আমি ঘরে বসে থাকতে পারবো না।”
আমি ভয়ে ছিলাম, ফোনেই ককটেল আর গুলির শব্দ শুনছিলাম। বললাম, “ফিরে আসো।”
তুমি বললে, “আমি সাবধানে আছি।”

কেমন সাবধান ছিলে তুমি, নাফিয়ানের বাবা?
জালিমের গুলি মাথা ভেদ করে দিয়েছিল।
শুনেছি, তুমি রাস্তার ওপর যন্ত্রণায় ছটফট করছিলে, কেউ বলেছিল, গলাকাটা মাছের মতো লাফাচ্ছিলে!

হঠাৎ তোমার নাম্বার থেকে ফোন এলো। উত্তেজনায় “হ্যালো” বলতেই অপরিচিত কণ্ঠ… বুক কেঁপে উঠলো, আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“আমার নাফিয়ানের বাবা কোথায়?”
জবাব এলো—তুমি গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে আছো!

নিজেকে শক্ত করেও কল দিতে থাকলাম। আশা করছিলাম, এবার বুঝি তুমি উত্তর দেবে।
ভাইয়াকে ফোন দিলাম, কিন্তু কিছুই বলতে পারছিলাম না—শব্দ আটকে যাচ্ছিল গলায়।

হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে বেড়ালাম তোমার খোঁজে।
তোমাকে যখন ইবনে সিনার আইসিইউতে পেলাম, তখনো আমার মাথায় একটাই চিন্তা—তুমি না দুপুরে ভাত খাওনি!
পেটে হাত দিয়ে বুঝলাম—তুমি সারাদিন না খেয়েই থেকেছো।

চোখে পানি নিয়ে বসেছিলাম, ভাবছিলাম একটু ঘুমাই, আবার উঠেই দেখবো তুমি চোখ খুলেছো, ডাকছো আমায়।
কিন্তু চোখ খুলে দেখি, তোমার মুখে অক্সিজেন মাস্ক নেই—সবাই পাথরের মতো দাঁড়িয়ে।
তুমি আর নেই...

সেই মুহূর্তটা—যখন বুঝলাম তুমি ফিরে আসবে না—আমার সব ভেঙে গেলো।
তোমাকে শেষবারের মতো বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলাম, কিন্তু তুমি আর আমাকে জড়িয়ে ধরলে না।
আমি চিৎকার করে ডাকলাম—তবুও কোনো সাড়া দিলে না।

তোমার সব ছিল—শুধু নিঃশ্বাসটুকু ছিল না।
শুধু এইটুকু না থাকার কারণে, যোজন যোজন দূরে রেখে আসতে হলো তোমায়।

১৯ জুলাই হয়ে থাকলো আমার জীবনের সবচেয়ে কালো দিন।

আজ সেই দিনটা ঘুরে এলো—তোমার অনুপস্থিতির এক বছর পূর্ণ হলো।
তবুও আজও মানতে পারি না, যে তুমি নেই।
তুমি একজন শহীদ, সাহসী এক যোদ্ধা।
আমি গর্বিত—কারণ আমি শহীদ মুত্তাকিন বিল্লাহর স্ত্রী, আর আমাদের সন্তান নাফিয়ান একজন বীরের উত্তরসূরি।

আল্লাহ তোমার কবরকে নূরে ভরে দিক। আমিন।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.