ইরান-ইসরায়েলের হামলা নিয়ে সর্বশেষ
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত সপ্তম দিনে, পরিস্থিতি দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত সপ্তম দিনে পা দিয়েছে এবং প্রতিদিনই তা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। একে অপরকে লক্ষ্য করে উভয় দেশই নিয়মিত মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বর্তমানে ইরান শতাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালাচ্ছে।
ইসরায়েলে কী ঘটছে
- দক্ষিণ ইসরায়েলের বেয়ারশেবা শহরের সোরোকা হাসপাতাল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির অস্তিত্ব মুছে দিতে হবে।"
- ইরান দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল হাসপাতালের পাশে থাকা একটি সামরিক ঘাঁটি।
- তেল আভিভ ও রামাত গনসহ একাধিক শহরে রাতভর ইরানি হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
- প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের অংশীদারিত্ব দৃঢ় ও প্রশংসনীয়। তিনি তেহরানকে চড়া মূল্য চোকানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
- প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ সেনাবাহিনীকে ইরানের ওপর আরও তীব্র হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরানে কী ঘটছে
- ইসরায়েল আরাক পারমাণবিক চুল্লি, নাতাঞ্জসহ বেশ কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
- ইরান এই হামলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাকে (IAEA) জানিয়েছে।
- প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “আমরা এই কঠিন সময় পেরিয়ে যাব।”
- মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছেন ৬৩৯ জন, আহত ১,৩২০ জনের বেশি।
- সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, “শত্রু বুঝে ফেললে যে আপনি ভয় পেয়েছেন, তখনই তারা আঘাত বাড়াবে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য তথ্য
- যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে সরাসরি জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমি শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেব।”
- হোয়াইট হাউসের সামনে যুক্তরাষ্ট্রকে এ সংঘাতে না জড়ানোর আহ্বানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।
- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, আমেরিকার হস্তক্ষেপ ঘটলে এটি বিশ্বব্যাপী নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে।
- সংঘাতের সূচনা
গত ১২ জুন রাতে ইসরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে ইরানের বিভিন্ন সামরিক, গবেষণা ও আবাসিক স্থাপনায় আকস্মিক হামলা চালায়।
এই হামলায় নিহত হন:
- সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি
- আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি
- জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা গোলাম আলি রশিদ
- ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানীসহ শতাধিক ব্যক্তি
এর প্রতিশোধে ১৪ জুন রাতে ইরান শুরু করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩’, যার আওতায় ইসরায়েলে লক্ষ্যভেদী ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় হতাহত তুলনামূলকভাবে কম হলেও ইসরায়েল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

No comments
ধন্যবাদ।