Header Ads

Header ADS

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং

ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং: বাস্তবতা, সুযোগ প্রস্তুতির পথচলা

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেনফ্রিল্যান্সিংএকটি নির্দিষ্ট পেশার নাম। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো পেশা নয়, বরং কাজ করার একটি ধরন। যেমন কেউ পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন চাকরি করেন, তেমনি অনেকেই স্বাধীনভাবে (ফ্রিল্যান্স) কাজ করে থাকেন। ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মী না হয়েও বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পভিত্তিক কাজ করে থাকেন।

ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় আজ অনেকেই ঘরে বসে বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করছেন। তাঁরা পরিচিতফ্রিল্যান্সারহিসেবে। তবে পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটু বেশি নির্দিষ্ট হওয়া ভালো। যেমন কেউ যদি অনলাইন বা অফলাইনে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করেন, তাহলে নিজেকে "ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার" বলা আরও পরিষ্কার পেশাদার পরিচয়।

আউটসোর্সিং কী এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ

আউটসোর্সিংবলতে বোঝায়কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের নির্দিষ্ট কাজ বাইরের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করিয়ে নিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন "A to Z" নামক একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের কিছু গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে চায়। তারা চাইলে নিজস্ব কর্মীদের দিয়ে কাজ করাতে পারে, অথবা সহজে কম খরচে বাইরের কোনো দক্ষ কর্মী বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নিতে পারে। এটাই মূলত আউটসোর্সিং।

ফ্রিল্যান্সাররা এভাবেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্স করা কাজ সম্পাদন করেন। তাই যারা বলেন, “আমি আউটসোর্সিং করি”—তাঁদের বলা উচিত, “আমি আউটসোর্সকৃত কাজ করিবাফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করি

ফ্রিল্যান্স কাজ পাওয়া যায় কোথায়

অনলাইনে কাজ পাওয়ার জন্য অনেক নির্ভরযোগ্য মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেমন:

  • Upwork.com
  • Freelancer.com
  • Fiverr.com
  • PeoplePerHour.com
  • Guru.com

এই ওয়েবসাইটগুলোতে কাজ পেতে হলে প্রথমে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। এরপর ক্লায়েন্টদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের জন্য আবেদন করতে হয়। তারা আপনার দক্ষতা প্রোফাইল যাচাই করে কাজের সুযোগ দেন।

যে কাজই পান না কেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্পন্ন কাজ জমা দেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে যে কাজগুলো করা যায়

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ে যেসব কাজের চাহিদা বেশি, তার মধ্যে রয়েছে:

  • লেখালেখি কনটেন্ট রাইটিং
  • গ্রাফিক ডিজাইন
  • ওয়েব ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট
  • ডেটা এন্ট্রি
  • থ্রিডি অ্যানিমেশন ভিডিও এডিটিং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং এসইও
  • লিড জেনারেশন
  • সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি

পূর্ণকালীন চাকরি বনাম ফ্রিল্যান্স কাজ

পূর্ণকালীন চাকরিতে নির্দিষ্ট সময় স্থানে কাজ করতে হয়। অন্যদিকে, ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি সময় স্থান নির্ধারণের স্বাধীনতা পান। তবে এই স্বাধীনতার পাশাপাশি আসে একাকিত্ব, চাপ সময় ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ। দলগত সহায়তা না থাকায় সব কিছু একা সামলাতে হয়। সেই সঙ্গে ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাদার যোগাযোগ মানসম্পন্ন ডেলিভারিও নিশ্চিত করতে হয়।

ভিন্ন ভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় গভীর রাতেও জেগে থাকতে হয়, সময়মতো কাজ জমা দেওয়ার জন্য। তবে দক্ষতা ধৈর্য থাকলে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির চেয়েও বেশি আয়ের মাধ্যম।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে হলে কী করতে হবে

ফ্রিল্যান্সিংয়ে টিকে থাকতে সফল হতে হলে শুধু অবসরে সময় কাটানোর মানসিকতা নিয়ে নামা যাবে না। অল্প সময় দিয়ে ক্ষেত্রে ভালো করা প্রায় অসম্ভব। অনেকেই আছেন, যাঁরা দক্ষ হয়েও পূর্ণ মনোযোগ না দেওয়ার কারণে সফল হতে পারেননি।

যদি সত্যিই এই পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তবে আপনাকে দিতে হবে

  • সময় মনোযোগ
  • প্রতিনিয়ত শেখার মনোভাব
  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা (লিখিত মৌখিক)
  • নিজের কাজ বাজারজাত করার কৌশল
  • গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ বিশ্বাস অর্জন
  • ভালো রিভিউ পাওয়ার জন্য মানসম্পন্ন কাজ সময়ানুবর্তিতা
  • পেশাদার আচরণ ধারাবাহিকতা

আপনার মূল দক্ষতা মার্কেটে চাহিদা আছে কি না, তা যাচাই করুন। না থাকলে, কাছাকাছি অন্য কোনো চাহিদাসম্পন্ন কাজ শিখে প্রস্তুত হোন। চিকিৎসক বা প্রকৌশলীর মতোই এই পেশায়ও আপনাকে শিখতে হবে, জানতে হবে, আপডেট থাকতে হবে।

শেষ কথা

ফ্রিল্যান্সিং কোনো ম্যাজিক নয়, এটি কঠোর পরিশ্রম, শেখা অধ্যবসায়ের ফল। আপনি যদি প্রকৃত মনোযোগ দিয়ে এই খাতে সময় দিতে পারেন, তবে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।

এটা একদিকে যেমন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুযোগ দেয়, তেমনি আপনাকে গড়ে তোলে একজন দায়িত্ববান, আত্মনির্ভরশীল পেশাজীবী হিসেবে।


No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.