Header Ads

Header ADS

বাংলাদেশ থেকে ভারতের আগ্রায় তাজমহল ভ্রমণ

তাজমহল

মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর প্রেমের স্মারক তাজমহল পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। স্ত্রী মমতাজ মহলের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে এই অপূর্ব সৌধ নির্মাণ করা হয়। মমতাজের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে শাহজাহান তাঁর সমাধিস্থলে নির্মাণ করেন এই অসাধারণ স্থাপনাটি। ভারতীয়, পার্সিয়ান ও ইসলামিক স্থাপত্যরীতির সমন্বয়ে নির্মিত তাজমহল মধ্যযুগীয় মুঘল স্থাপত্যকলার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

তাজমহলের বাইরের দেয়ালজুড়ে ব্যবহৃত হয়েছে শুভ্র মার্বেল পাথর, যা সূর্যালোকের ভিন্নতাভেদে রঙ বদলায়—সকালে হালকা গোলাপি, দুপুরে উজ্জ্বল সাদা এবং সন্ধ্যায় সোনালি আভা ধারণ করে। এর অপূর্ব সৌন্দর্য, নিখুঁত নির্মাণশৈলী ও বিশদ কারুকাজের জন্য ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো তাজমহলকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। স্থাপত্যশিল্পে অনন্য এই সৃষ্টি শুধু ভারতের ইতিহাস-ঐতিহ্যকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং বিশ্বের নজর কেড়েছে অতুলনীয় সৌন্দর্যে।

মুঘল রাজবংশের পঞ্চম সম্রাট ছিলেন শাহজাহান। বাবর, হুমায়ুন, আকবর ও জাহাঙ্গীরের পর তিনি মুঘল সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। জাহাঙ্গীরের তৃতীয় পুত্র হিসেবে জন্ম নেওয়া শাহজাহান রাজ্যাভিষেকের আগে ‘শাহজাদা খুররাম’ নামে পরিচিত ছিলেন। সিংহাসনে বসার পর তিনি নাম গ্রহণ করেন “আবুল মুজাফফর শিহাবুদ্দিন মোহাম্মদ শাহজাহান সাহেব কিরান-ই-সানি”। ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত মুঘলরা উত্তর ভারতের অধিকাংশ অঞ্চল শাসন করে, আর শাহজাহানের আমলকে ধরা হয় মুঘল স্থাপত্য ও শিল্পকলার স্বর্ণযুগ হিসেবে।

তিনি ১৫৯২ সালের ৫ জানুয়ারি বর্তমান পাকিস্তানের লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই সাহস, বিচক্ষণতা ও নেতৃত্বের গুণাবলির কারণে তিনি তার দাদা সম্রাট আকবরের অতি প্রিয় ছিলেন।

চতুর্থ মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর সিংহাসনের দাবিদার হিসেবে শাহজাহান তার ভাইদের সঙ্গে তীব্র ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত ও নির্মূল করে ১৬২৮ সালে তিনি পঞ্চম মুঘল সম্রাট হিসেবে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন প্রিয়তমা স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম, যাকে ১৬১২ সালে বিয়ে করে ‘মমতাজ মহল’ নামে অভিহিত করেন, যে নামেই তিনি ইতিহাসে বেশি পরিচিত।

যুবরাজ থাকাকালীন ১৬১১ সালে এক রাজভ্রমণে গিয়ে ১৪ বছরের কিশোরী আরজুমান্দ বানুর প্রতি প্রেমে পড়েন শাহজাহান। সেদিনই দু’জনের বাগদান সম্পন্ন হয়, যদিও বিয়ে সম্পন্ন হয় এক বছর পরে। ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও অধিকাংশের মতে মমতাজ ছিলেন শাহজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী। কেউ কেউ তাকে তৃতীয় বা চতুর্থ স্ত্রী হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তবে নিঃসন্দেহে, তিনি ছিলেন সম্রাটের সবচেয়ে প্রিয় ও ঘনিষ্ঠ জীবনসঙ্গিনী।

১৬৩১ সালে, মাত্র ৩৮ বছর বয়সে, ১৪তম সন্তান জন্মদানের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মমতাজ মহলের মৃত্যু হয়। অনেকে মনে করেন, মমতাজের মৃত্যুর জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী ছিলেন শাহজাহান নিজেই। তিনি তখন যুদ্ধে যাচ্ছিলেন এবং গর্ভবতী মমতাজকে সঙ্গে নিয়েই যাত্রা করেছিলেন। দুর্গম পাহাড়ি পথে দীর্ঘক্ষণ হাতির পিঠে থাকার ফলে তার প্রসবব্যথা শুরু হয় এবং ৩০ ঘণ্টা দীর্ঘ প্রসব যন্ত্রণার পর সন্তান জন্ম দিয়ে তিনি মারা যান।

মমতাজের মৃত্যুর পর শাহজাহান গভীর শোক ও অনুশোচনায় নিমজ্জিত হন। সাতদিন সাত রাত তিনি উপবাসে কাটান, মুখে কোনো খাদ্যগ্রহণ করেননি, এমনকি নিজের কক্ষ থেকেও বের হননি। প্রেমে ও অনুতাপের গভীর আবেগ থেকেই শাহজাহান সিদ্ধান্ত নেন মমতাজের স্মরণে এক চিরস্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করার।

জনশ্রুতি অনুসারে, মৃত্যুর আগে মমতাজ শাহজাহানের কাছে দুটি শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। প্রথমত, তার মৃত্যুর পর যেন শাহজাহান আর কোনো নারীর গর্ভে সন্তান না আনেন। দ্বিতীয়ত, তার সমাধিস্থলে যেন এমন একটি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়, যা যুগের পর যুগ ধরে পৃথিবীবাসীর কাছে তাদের ভালোবাসার সাক্ষ্য বহন করে। এই দুই ইচ্ছা পূরণে শাহজাহান গড়েছিলেন প্রেমের এক অপূর্ব প্রতীক—তাজমহল।

অনেকে মনে করেন, সম্রাট শাহজাহানের তাজমহল নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মমতাজ মহলের প্রতি ভালোবাসা নয়, বরং তার স্থাপত্যরুচি ও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ইতিহাসবিদদের মতে, শাহজাহান ছিলেন মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক বিশেষ অনুরাগী। তার শাসনামলে গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে অসংখ্য স্থাপনা নির্মিত হয়েছে, যা আজও মুঘলদের স্থাপত্য কৃতিত্বের নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান। অনেকে বলেন, সম্রাট চেয়েছিলেন এমন এক স্থাপত্য তৈরি করতে যা তার নামকে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

এই কারণেই উত্তর ভারতের আগ্রা শহরে যমুনা নদীর তীরে গড়ে তোলা হয় সেই অমর প্রেমের প্রতীক—তাজমহল। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, মমতাজের প্রতি প্রেমের চেয়ে সম্রাটের ব্যক্তিগত খ্যাতি ও অমরত্ব লাভের বাসনাই তাজমহল নির্মাণের পিছনে আরও বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

তাজমহলের নকশা ও নির্মাণ

মমতাজ মহলের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর, ১৬৩২ সালে শুরু হয় তাজমহলের নির্মাণকাজ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বিশাল স্থাপত্যকীর্তির নকশা কোনো একজনের একক কাজ নয়। সম্রাট শাহজাহান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্যাতনামা স্থপতিদের আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এই শিল্পকর্ম। ঐতিহাসিক দলিল ও তথ্যের ভিত্তিতে নিচে তাজমহলের নির্মাণে অবদান রাখা কিছু প্রধান শিল্পী ও স্থপতির নাম তুলে ধরা হলো:

  1. চত্বরের নকশা: পারস্যের খ্যাতনামা স্থপতি ওস্তাদ ঈসা
  2. মূল গম্বুজের নকশা: অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আগত স্থপতি ইসমাইল খা
  3. গম্বুজের ওপর স্বর্ণখচিত দণ্ডের ডিজাইন: লাহোরের স্বর্ণশিল্পী কাজিম খান
  4. প্রধান ভাস্কর ও মোজাইক শিল্পী: দিল্লীর চিরঞ্জী লাল
  5. চারু লিপি ডিজাইন ও তদারক: আমানত খাঁ—তাজমহলের প্রবেশদ্বারে তার নাম খোদাই করা আছে।
  6. রাজমিস্ত্রিদের তত্ত্বাবধায়ক: মোহাম্মদ হানিফ
  7. সমগ্র প্রকল্পের প্রধান ব্যবস্থাপক: মীর আব্দুল করিম এবং মুক্কারিমাত খান

তাজমহল নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছিলো অত্যন্ত মূল্যবান বিভিন্ন প্রকার পাথর, যেমন সাদা মার্বেল, জেড, ক্রিস্টাল, নীলকান্ত এবং ফিরোজা। এই সব উপাদান ব্যবহার করে “পিতরা দুরা” নামে পরিচিত এক জটিল ও সূক্ষ্ম নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়, যা তাজমহলকে করে তুলেছে আরও অনন্য ও আকর্ষণীয়।

যমুনা নদীর তীরে তাজমহল নির্মাণের জন্য যে জমিটি বেছে নেওয়া হয়, তা ছিল রাজপুত শাসক মহারাজা জয় সিং-এর মালিকানাধীন। সম্রাট শাহজাহান আগ্রা শহরে একটি বিশাল প্রাসাদের বিনিময়ে তার কাছ থেকে এই জায়গাটি গ্রহণ করেন। পরে নদীর তীরবর্তী ওই জায়গা সমান করতে প্রায় ৫০ মিটার উঁচু পর্যন্ত আলগা মাটি ফেলে প্রায় ৩ একর জায়গা ভরাট করা হয়।

তাজমহলের প্রধান প্রবেশপথটি প্রায় ১০০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এবং এটি লাল বেলে পাথর দিয়ে নির্মিত। ইসলামিক স্থাপত্যের ঐতিহ্য অনুসরণ করে এর প্রবেশ তোরণে কোরআনের আয়াত ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে উৎকীর্ণ করা হয়েছে। মূল গম্বুজটি ২৪০ ফুট (৭৩ মিটার) উচ্চতার, যার চারপাশে রয়েছে আরও চারটি ছোট গম্বুজ। পুরো স্থাপনার চার কোনায় রয়েছে ১০৮ ফুট উঁচু চারটি মিনার, যা স্থাপনার ভারসাম্য ও সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

তাজমহলের সামনের অংশে বিশাল চত্বরটি চার ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগ আবার ৩০০ বর্গমিটার আয়তনে বিভক্ত হয়ে ফুলের বাগানে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে মোট ১৬টি বাগান। বাগানের মাঝখান দিয়ে একটি সোজাসুজি পানির চৌবাচ্চা রাখা হয়েছে, যাতে পরিষ্কার পানিতে তাজমহলের প্রতিফলন দেখা যায়—এটা স্থাপনার নান্দনিকতাকে দ্বিগুণ করে তোলে।

মূল চত্বরটি তিনদিকে বেলে পাথরের দেয়াল দিয়ে ঘেরা, তবে যমুনা নদীর দিকটি খোলা রাখা হয়েছে যেন নদীর পাশে দাঁড়িয়ে তাজমহলকে অবলোকন করা যায়।

তাজমহলের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশিষ্ট কক্ষে সমাহিত রয়েছেন সম্রাট শাহজাহান এবং তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহল। শুরুতে এখানে কেবল মমতাজের সমাধি ছিল, কিন্তু ১৬৬৬ সালের ২২ জানুয়ারি শাহজাহানের মৃত্যুর পর তাকেও স্ত্রীর পাশে সমাহিত করা হয়। এই সমাধিকক্ষটি বিশ্বজুড়ে প্রেমের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

তাজমহল নির্মাণে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক এবং নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয় ১ হাজারেরও বেশি হাতি। পুরো নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ বছর

শাহজাহানের শেষ জীবন ছিল বেদনাদায়ক। পুত্র আওরঙ্গজেব তাকে আগ্রা দুর্গে গৃহবন্দি করে রাখেন, যেখানে তিনি জীবনের শেষ ৮ বছর কাটান। এই বন্দি অবস্থাতেই তিনি স্ত্রী মমতাজের তৈরি স্মৃতিসৌধ তাজমহল দূর থেকে দেখেই দিন কাটাতেন। মৃত্যুর পর তাকে সেই প্রেমমন্দিরের ভেতর স্ত্রীর পাশেই শায়িত করা হয়—যেখানে যুগ যুগ ধরে বিরাজমান ভালোবাসার এক অবিনাশী চিহ্ন হিসেবে রয়ে গিয়েছে তাজমহল।

বাংলাদেশ থেকে  ভারতের আগ্রায় তাজমহল ভ্রমণ

১. পাসপোর্ট ও ভিসা:

তাজমহল ভ্রমণের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা প্রয়োজন। এর জন্য:

  • ই-পাসপোর্ট থাকা আবশ্যক
  • ভারতীয় হাইকমিশনের (ঢাকা/চট্টগ্রাম/খুলনা ইত্যাদি) মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে হবে
  • সাধারণত অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ফর্ম পূরণ, ছবি ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়

২. যাতায়াত পদ্ধতি:

অপশন ১: ঢাকা → আগ্রা (বিমান + ট্রেন)
  1. ঢাকা → দিল্লি (বিমান)

    • এয়ারলাইন্স: বিমান বাংলাদেশ, ইন্ডিগো, নভোএয়ার (স্টপসহ)
    • সময়: ২.৫–৩.৫ ঘণ্টা

  2. দিল্লি → আগ্রা (ট্রেন/বাস/কার)

  • ট্রেন: গ্যাটিমান এক্সপ্রেস, শতাব্দী এক্সপ্রেস
  • সময়: ২–৩ ঘণ্টা
  • বিকল্প: প্রাইভেট গাড়ি বা ট্যুরিস্ট বাস
অপশন ২: সড়কপথে (বাস)
  1. ঢাকা → কলকাতা (আন্তর্জাতিক বাস)

  • সময়: ১০–১২ ঘণ্টা
  1. কলকাতা → আগ্রা/দিল্লি (ট্রেন/বাস/ফ্লাইট)


 ৩. তাজমহল ভ্রমণ তথ্য:

  • অবস্থান: আগ্রা, উত্তর প্রদেশ, ভারত
  • প্রবেশ মূল্য:

    1. বিদেশি নাগরিক: ₹1100 (প্রতি জন), তাজমহলের ভেতরের মাজার দেখতে চাইলে অতিরিক্ত ₹200

  • ভ্রমণের সময়:
  1. খোলা থাকে: শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন

  2. সময়: সকাল ৬টা – সন্ধ্যা ৬টা
  3. সবচেয়ে ভালো সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ

৪. থাকার ব্যবস্থা:

  • আগ্রায় বিভিন্ন মানের হোটেল পাওয়া যায়: বাজেট, মিডিয়াম ও বিলাসবহুল (Taj Hotel, Amar Vilas, Budget Guest House)
  • আগেই বুকিং করে রাখা সুবিধাজনক

 ৫. খাবার:

  • আগ্রায় উত্তর ভারতীয় খাবারের প্রচলন বেশি: নান, মাখনি, বিরিয়ানি
  • হালাল খাবার পাওয়া যায় (বিশেষ করে মুসলিম এলাকাগুলোতে)

 ৬. অতিরিক্ত ভ্রমণ স্থান (তাজমহলের আশেপাশে):

  • আগ্রা ফোর্ট
  • মেহতাব বাগ
  • ফতেহপুর সিক্রি
  • ইতমাদ-উদ-দৌলা (Baby Taj)

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.