Header Ads

Header ADS

ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস কতটা ভয়াবহ

 ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস ঘটে যখন শরীরে ইনসুলিনের অভাবের কারণে গ্লুকোজ (শর্করা) কোষে পৌঁছাতে পারে না এবং শরীর শক্তি উৎপাদনের জন্য চর্বি ভাঙা শুরু করে। এর ফলে কিটোন নামে ক্ষতিকর অ্যাসিড তৈরি হয় এবং তা রক্তে জমা হয়, যার ফলে রক্তের অম্লতা বেড়ে যায়।


ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের কারণ-

ইনসুলিনের অভাব: টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীদের শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, যা এর প্রধান কারণ।

ইনফেকশন বা অসুস্থতা: কোনো সংক্রমণ বা অসুস্থতা হলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, যা কিটোঅ্যাসিডোসিসের সৃষ্টি করতে পারে।

ইনসুলিন থেরাপি বন্ধ বা ভুল: ইনসুলিন না নেয়া বা ভুলভাবে ইনসুলিন নেয়া এর ঝুঁকি বাড়ায়।

স্ট্রেস: মানসিক বা শারীরিক চাপ বা ট্রমা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।


দেখে নিন লক্ষণগুলো-


১. বমি বমি ভাব বা বমি

২. পেটে ব্যথা

৩. অতিমাত্রায় পিপাসা ও প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি

৪. অত্যন্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা

৫. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

৬. মুখে ফলের মতো গন্ধ (কেটোনের কারণে)

৭.মনোযোগ বা চেতনা হারানো


চিকিৎসা-

হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার মধ্যে প্রধানত তিনটি অংশ থাকে।

ইনসুলিন থেরাপি: শরীরে ইনসুলিন সরবরাহ করে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা।

ফ্লুইড থেরাপি: ডিহাইড্রেশন এবং ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা।

ইলেকট্রোলাইট পরিবর্তন: পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদির সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা।



প্রতিরোধ-

ইনসুলিন নিয়মিত নেয়া: ইনসুলিনের ডোজ মেনে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো বা কমানো।

রক্তে শর্করা পরীক্ষা: নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা।

ইনফেকশন প্রতিরোধ: কোনো সংক্রমণ বা অসুস্থতা হলে তা দ্রুত চিকিৎসা করা।

ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস একটি গুরুতর এবং জরুরি অবস্থা, তবে দ্রুত চিকিৎসা করলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.